০৯ আগস্ট ২০২২
`
নড়াইলে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত

সেই শিক্ষককে আ’লীগ থেকে অব্যাহতি তদন্ত প্রতিবেদন আজ

-

নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা দেয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আকতার হোসেন টিংকুকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অচিন চক্রবর্ত্তী ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে বিছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মশিয়ার রহমানকে সভাপতির দায়িত্ব¡ দেয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আক্তার হোসেন টিংকু বলেন, ঘটনার দিন আমি সবসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। উদ্দেশ্যমূলক আমাকে দায়ী করা হচ্ছে।
এদিকে ৩০ জুন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আপনাকে (আকতার হোসেন) কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হচ্ছে। গত ১৮ জুন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রের মোবাইলে (ফেসবুক) স্ট্যাটাস নিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আপনি (আকতার হোসেন) ওই কলেজের একজন শিক্ষক এবং ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আপনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আপনার উপস্থিতিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যকে জুতার মালা পরিয়ে বের করে আনা হয়। যা নিন্দনীয় এবং শিক্ষক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করার সামিল। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবরে আপনাকে জড়িত করে সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। সে কারণে আপনি এ দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। আমরা মনে করি আপনি সভাপতি হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উপরোক্ত কারণে আপনাকে এই পত্র পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে লিখিত কারণ দর্শাতে বলা গেল। ৩০ জুন থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া গেল। ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মশিয়ার রহমান এখন থেকে এ দায়িত্ব¡ পালন করবেন।
অন্যদিকে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন শনিবার (২ জুলাই) দেয়ার কথা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। অন্য দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের অপর তদন্ত টিম কাজ করছে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখেন-‘প্রণাম নিও বস, নূপুর শর্মা জয় শ্রীরাম।’ এ পোস্ট দেয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসেন রাহুল। এরপর তার বন্ধুরা পোস্টটি মুছে ফেলতে বললেও সে পোস্ট মোছেনি। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোঁড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন।
এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনার দিন ১৮ জুন বিকেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতারমালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান।


আরো সংবাদ


premium cement