০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

রাঙ্গাবালীতে নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৩ ইউনিয়ন

রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙ্গা গ্রাম ভাঙছে : নয়া দিগন্ত -

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙ্গা গ্রামের অবদা থেকে মধ্য চালিতাবুনিয়ার বিবির হাওলা পর্যন্ত উপকূল এলাকার আবাদি জমি ও বাড়িঘর ভেঙে গেছে। উপজেলার চরমোন্তাজ ও ছোটবাইসদিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর উপকূলসংলগ্ন রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও আবাদি জমিও ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন রোধে এখনই কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হলে রাঙ্গাবালী উপজেলার এই তিনটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ফসলি জমি, বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
জানা গেছে, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের রামনাবাদ নদী ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের আগুনমুখা নদীর তীরবর্তীর প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার পরিবার নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। অন্য দিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই এ অঞ্চলে জোয়ার ভাটার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ফসিল জমি, বাড়িঘর ও গবাদিপশু নিয়ে আতঙ্কে থাকেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। রাত হলেই ঘুম চলে যায় তাদের নদী ভাঙনের শব্দে।


সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের উপকূলসংলগ্ন চালিতাবুনিয়া মমতাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চালিতাবুনিয়া নেছারিয়া ডিগ্রি মাদরাসা, গোলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চালিতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এয়াকুব আলী হাফিজিয়া মাদরাসাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রামনাবাদ নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। শিগগিরই ভাঙন রোধের উদ্যোগ না নিলে এসব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।
চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রামনাবাদ নদীভাঙন চলমান। শত শত পরিবার নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে স্কুল মাদরাসা ও মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভূমিহীন হয়েছে অনেক পরিবার। তিনি আরো বলেন, ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বেশ ক’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বহু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
চরমোন্তাজ ইউনিয়নের আ’লীগের সভাপতি মো: মনির হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরেই বুড়া গৌরাঙ্গ ও আগুনমুখা নদীর ভাঙন চলছে। এ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে চরবেস্টিন, কাসেম মোল্লার সুলিজ, নয়ারচর ও হিন্দু গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। অন্য দিকে ছোটবাইসদিয়া ইউনিয়নের কোরালিয়া লঞ্চ ঘাট, কোরালিয়া বাজারও আগুন মুখার ভাঙনে পড়েছে। ইতোমধ্যে ছোটবাইসদিয়ার শতশত একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফ হোসেন বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনীয়া, চরমোন্তাজ ও ছোটবাইসদীয়া ইউনিয়নের নদীভাঙন পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 


আরো সংবাদ


premium cement