০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

অস্তিত্ব সঙ্কটে রাঙ্গাবালীর প্রাণ গহিনখালী খাল

গহিনখালী খাল দখল করে গড়ে ওঠা একটি স্থাপনা : নয়া দিগন্ত -

দখলে দখলে অস্তিত্ব হারাচ্ছে রাঙ্গাবালীর প্রাণ গহিনখালী খাল। রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বাহেরচর বাজার গড়ে উঠেছিল পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গহিনখালী খালকে ঘিরে। এর তীরেই স্থাপিত হয় রাঙ্গাবালী জনপদ; কিন্তু কালের বিবর্তনে ও স্থানীয় লোকজনের দখলদারিত্বের কারণে নাব্যতা সঙ্কটে ভুগছে এই খালটি।
জানা যায়, একসময় প্রবল স্রোতে উচ্ছল ছিল গহিনখালী খাল। প্রস্থ ও গভীরতা ছিল অনেক। ফলে নির্বিঘেœ যাতায়াত করত বড় বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ ও মালামাল বহনকারী কার্গো। বর্তমানে লঞ্চ-কার্গো তো দূরের কথা, ইঞ্জিন-চালিত ট্রলার চলাচলেও দেখা দিয়েছে বিঘœতা। যে কারণে নৌপথনির্ভর এ অঞ্চলের ব্যবসাবাণিজ্যের নানা কর্মযজ্ঞ থমকে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে অর্থনেতিক অগ্রগতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নৌপথে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম রাঙ্গাবালী সদর ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া এ খালটি, যার গুরুত্ব ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে অপরিসীম ও অপূরণীয়। আজ কিছু অসাধু প্রশাসনিক লোকের পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে দখল হয়ে যাচ্ছে। দখলের এ পর্যায়ে খালটি এখন নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের দাবি, দখলের কারণে নাব্যতা সঙ্কটের হাত থেকে খালটি রক্ষা করা এবং সরকারি নির্দেশে অনুযায়ী কাক্সিক্ষত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খালের দক্ষিণ পাড়ে বাহেরচর এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে মেতে উঠেছে একদল প্রভাবশালী। দখলকারী এসব ব্যক্তি ভাটার সময় খালের তীরে কাঠ-বাঁশ দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে ইট-বালু ফেলে ভরাট করে নিজেদের ইচ্ছামতো গড়ে তুলেছেন অবৈধ স্থাপনা (পাকা ভবন)। যার কারণেই নদী তার নাব্যতা হারাচ্ছে এবং এ অঞ্চলের নৌপথনির্ভর ব্যবসাবাণিজ্য হুমকির মুখে ধাবিত হচ্ছে। দখলকারী এসব ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেনÑ বাহেরচর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্বাস হাওলাদার, অহিদ মল্লিক, জহির মৃধা (ওয়ার্কশপ জহির), নিপা বেগম, সোহরাব হেকিম (শ্রীপুর সোহরাব), আলম খান (ডেকোরেটর আলম), দাদন মৃধাসহ অনেকে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণের জন্য ভূমি অফিস বেছে নিয়েছে এই খালটির তীর, যা এই খালটিকে আরো নাব্যতা সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, জলাশয় খাস হলে সেটি জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে। যদিও এটি পানিসংক্রান্ত ব্যাপার, তাই এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খালটি পরিদর্শন করতে বলবেন এবং তিনি পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেবেন। এরপর জেলা প্রশাসক আমাদেরকে তথা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন। আমাদেরকে (পানি উন্নয়ন বোর্ডকে) দায়িত্ব দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, খালটিতে উন্নয়ন বোর্ডের কিছু জায়গা রয়েছে ও কিছু খাস জমি রয়েছে। জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে খালটির দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক একজন অফিসারকেও পাঠিয়েছেন, তিনি এসে পরিদর্শন করে গেছেন। দখলদারদের উচ্ছেদে খুব শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে।


আরো সংবাদ


premium cement