১৯ মে ২০২২, ০৫ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩
`

সোনারগাঁওয়ে করোনায় বন্ধ হচ্ছে গুনার তাঁত

-

মসলিন ও জামদানির মতো হারিয়ে যেতে বসেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের গুনার তাঁত। সোনারগাঁও থেকে মসলিন বিলুপ্ত হলেও সেই তাঁতের আদলেই তৈরি হয় গুনার (তারের) তৈরি জাল। আজ নিভু নিভু করে টিকে রয়েছে এ শিল্পটি। পরিবেশবান্ধব এই তাঁত রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
গুনার (তার) জাল একটি ক্ষুদ্র শিল্প। এক সময়ে সোনারগাঁওয়ের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই থাকলেও বর্তমানে সোনারগাঁওয়ে কয়েকটি গ্রামে কারখানা রয়েছে। তাছাড়া করোনায় অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। মজুরি খুব একটা বেশি না পেলেও তারের জাল বুনেই খেয়ে-পরে সন্তুষ্ট সংশ্লিষ্ট কারিগর। তবে চাহিদা মতো সহজ শর্তে ঋণ পেলে এ শিল্প আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন অনেকে।
জানা যায়, উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার খাসনগর দীঘিরপাড়, ইছাপাড়া, দরপত, উত্তর ষোলপাড়া, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ, ভাগলপুর, ছোট সাদিপুরসহ সাদীপুর, জামপুর, নোয়াগাঁও, কাঁচপুর, বারদী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় গুনার (তার) তাঁত রয়েছে।
গুনার(তারের) জাল বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়। ঘরের জানালা, খাবার রাখার সেলফ, কনস্ট্রাকশনের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার, মাছের খাঁচা, চিংড়িঘেরসহ অনেক কাজে লাগে এই জাল। বর্তমানে মাছ চাষের পুকুরে নেটিং করার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। বর্তমান সময়ে দেশে ব্যাপক হারে মাছের চাষ করা হচ্ছে। মাছ চাষের সময় অনেক ক্ষেত্রে নেটিং করার প্রয়োজন পড়ে। তাই এর ব্যবহার বেশি। আগে এই জাল তৈরির পর বিভিন্ন রকমের রঙ করে বিক্রি করা হতো। বর্তমানে আর হাতে রঙ করতে হয় না। চাহিদা মতো দানা (প্লাস্টিক)’র লেমিনেশন করা তার কিনতে পাওয়া যায় বিধায় সহজেই তা এনে জাল বোনা যায়। ঢাকা, নরসিংদী, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা সোনারগাঁও থেকে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নেন। অনেকে বিদেশেও রফতানি করছেন এই জাল। এ তাঁত ব্যবসা করে সোনারগাঁওয়ে অনেক ব্যবসায়ী সচ্ছল হয়েছেন।
তারের জাল তৈরির কারিগর মাইনুদ্দিন, খোরশেদ আলম, আলী, আজিজুল, কামাল হেসেনসহ আরো অনেকে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে কারিগর হিসেবে কাজ করছি। একটি ১০০ ফুটের জাল (নেট) তৈরি করতে সময় লাগে শ্রেণীভেদে দুই থেকে তিন দিন। কারিগররা মজুরি পান জাল তৈরি হিসেবে। সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে প্রতিটি জাল তৈরির কারিগর মজুরি। এর মধ্যে আবার কারিগরদেরই জোগালির মজুরি দিতে হয়। জোগালী হিসেবে অনেক মহিলারা কাজ করেন। গড় হিসেবে সব মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে একজন কারিগর শ্রমের মজুরি পেয়ে থাকেন দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। সে টাকা থেকেই বেতন দিয়ে রাখতে হয় জোগালিদের। যদি কারিগরদের সাথে জোগালি থাকে তাহলে দ্রুত জাল বোনা সম্ভব। আর একা করলে সময় লাগে দ্বিগুণ। জোগালিরা কোলের রোলার থেকে মাথার (অপর প্রান্তের) রোলার পর্যন্ত গুনা (তার) টেনে সংযোগ করে, চড়কি থেকে মাক্কুতে গুনা (তার) ভরে দেয় ও ঝাঁপ (পায়ের নীচের দু’টো বাঁশ উচু-নীচু করে) মারে। আর কারিগররা মাক্কু মেরে নিপুণ হাতে সূক্ষ্মভাবে জাল তৈরি করেন।
তাঁত মালিক চানু মোল্লা বলেন, প্রায় সাত-আট বছর ধরে এ পেশায় নিয়োজিত। আগে এটি শ্বশুর করত। এখন আমি এ ব্যবসা করি। দু’টি তাঁতের একটি বন্ধ রয়েছে। কারিগর নেই। কাজকাম কম।

 


আরো সংবাদ


premium cement