০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

পাবনায় অসময়ে বৃষ্টিতে পেঁয়াজের বীজতলা নষ্ট, চিন্তায় চাষিরা

-

অসময়ে বৃষ্টিতে পেঁয়াজ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছে পাবনার পেঁয়াজ চাষিরা। চারার অভাবে আশানুরূপ আবাদ করতে পারছে না পাবনা জেলার অনেক পেঁয়াজ চাষি। এতে পাবনা অঞ্চলে পেঁয়াজের ফলন কমে যেতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরে দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট এবং বর্তমান মাটি নরম থাকায় পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ জেলার সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়া, ফরিদপুরসহ প্রায় সব উপজেলাতেই পেঁয়াজ চাষের মৌসুম নাবি হয়ে গেছে। চারা নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষক অর্থাভাবে পেঁয়াজ আবাদ করতে চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছেন।
সদর উপজেলার বকশিপুর গ্রামের মসলেম উদ্দিন বলেন, এই মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য নয় বিঘা জমি প্রস্তুত করেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষণে আমার বীজতলার প্রায় তিন চতুর্থাংশ নষ্ট হয়ে যায়। পরে নতুন করে বীজতলা করলেও ভালো হয়নি। এখন চারা কিনে সব জমিতে লাগানো সম্ভব নয়।
পাবনা সদর উপজেলার ময়েন উদ্দিন, আতিক মোল্লা, মজিবর রহমান, অজিম প্রামাণিকসহ অনেকেই বলেন, পেঁয়াজের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমরা পেঁয়াজ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছি। কিন্তু চারা কেনার মতো টাকা আমাদের কাছে নেই। পেঁয়াজের বীজ চারা কেনার জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। তাছাড়া পাম্প ব্যবহার করে আমাদের ফসলের জমি থেকে স্থবির পানি অপসারণ করতে প্রচুর খরচ হয়েছে যা ব্যয়বহুলও।
পাবনার বিখ্যাত সাপ্তাহিক হাট হাজিরহাটে দেখা যায়, এক আঁটি পেঁয়াজ বীজের দাম সাত টাকা থেকে আট টাকা বিক্রি হচ্ছে। দাসপাড়ার বীজ বিক্রেতা আসলাম মোল্লা বলেন, ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ আটি বীজ চারা প্রয়োজন হয় এক বিঘা জমিতে। এ হিসেবে বিঘাপ্রতি বীজের জন্য প্রায় তিন হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
চরতারাপুর ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন শেখ বলেন, সরকার এখনই চাষিদের পাশে না দাঁড়ালে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ছয় লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৫২ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ডিসেম্বরের বৃষ্টিতে জেলার পেঁয়াজ চাষিরা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে তা পুষিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
পাবনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বর্তমান দেশে তাহেরপুর বারি-১ জাতের পেঁয়াজ আবাদ হচ্ছে। এ জাতের চেয়ে বারি-২, ৩, ৪ ও ৫ জাতের ফলন অনেক বেশি। কিন্তু এসব জাতের আবাদ এখনো কৃষক শুরু করেনি। তিনি বলেন, বর্তমান দেশে শুধু শীতকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। যা বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। আর বারি-৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর ফলন এতটাই বেশি যে কৃষক এর মজা পেয়ে গেলে এ জাতের প্রতি তখন ঝুঁকে পড়বে। প্রতি বিঘায় এর ফলন ১০০ মণের ওপর। তিনি জেলার সুজানগরে পেঁয়াজ মাঠ পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবনী উন্নত জাতের পেঁয়াজ মনমুগ্ধ করে তুলেছে। অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনমাতানো পেঁয়াজ মাঠ কৃষকদের উৎফুল্ল করে তুলেছে।
তিনি আরো বলেন, দেশে বর্তমান প্রায় ১১ লাখ টন পেঁয়াজ ঘাটতি আছে। সরকারের নির্দেশানুযায়ী আমাদের সারা বছরের জন্য পেঁয়াজের উৎপাদন প্রয়োজন এবং এ জন্য আমাদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। নতুন ও উন্নতজাত অবমুক্ত করতে সময় লাগবে।

 


আরো সংবাদ


premium cement