০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

উদ্বোধনের আগেই সুরমা সেতুতে ফাটল

-

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারা বাজার উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সুরমা সেতুতে উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটির ফাটলে এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই সেতুর গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তাদের মনে। অভিযোগ তোলা হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। ব্রিজের ফাটলের ছবি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করছেন তারা।
ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে সাধারণত পিলারগুলো উচ্চক্রম অনুসারে সাজানো হয়ে থাকে। কিন্তু সুরমা সেতুর ক্ষেত্রে মনে হয় এর বিপরীত সূত্র ধরে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। সেতুর প্রথম পিলার থেকে নদীর দিকে অগ্রসর দ্বিতীয় পিলারের উচ্চতা অন্তত এক থেকে দেড় ফুট নিচে থাকায় এমনটাই মনে হচ্ছে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মতে প্রকৌশলশাস্ত্রের বিপরীতে চলছে সুরমা সেতুর নির্মাণকাজ। প্রকৌশলশাস্ত্র অনুযায়ী একটি ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রথম পিলার থেকে দ্বিতীয় পিলার ক্রম উচ্চতায় অবস্থান করবে। দুয়ের অধিক পিলার দ্বারা নির্মিত ব্রিজের ক্ষেত্রে প্রথম পিলার থেকে দ্বিতীয় পিলার অন্তত এক ফুট উচ্চতায় থাকবে।
ব্রিজের কাজ চলা অবস্থায় ‘জন্মভূমি নির্মাতা’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার লুৎফুর রহমান ত্রুটির কথা স্বীকার করে জানান, দুটি প্ল্যানে সুরমা সেতুর প্ল্যানিং করা হয়েছে। যে কারণে সামান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছে। গার্ডারের নিচে ঢালাই দিয়ে লেভেল ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে প্রথমটি থেকে দ্বিতীয়টি অন্তত ৬ ইঞ্চি উচ্চতায় রয়েছে। এ ত্রুটির জন্য দু’টি ধাপে তৈরি ব্রিজের প্ল্যানিংকেই দায়ী করছেন তিনি।
একাধিক প্রকৌশলী জানান, ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান অনুযায়ী ব্রিজের পিলার মিডল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে উঁচু হয়ে যাবে। গার্ডারের নিচে সিসি ঢালাই দিয়ে লেভেল পূর্ণ করা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, সস্তা ও নি¤œমানের কাঁচামাল এবং প্রকৌশলী/বুয়েটের পরামর্শ ছাড়া কাজ না করায় উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement