১৭ আগস্ট ২০২২
`

মিরসরাইয়ের সবজির জন্য অপেক্ষা

-

দেশের অন্যান্য স্থানে শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পুরোদমে ওঠেনি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এখানকার শীতের শাকসবজি পুরোপুরি বাজারে আসবে বলে উপজেলা কৃষি অফিস আশা করছে। তবে কিছু কৃষকের অগ্রিম ফসল ধরায় বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন। খুব টাটকা আর সুস্বাদু বলে পরিচিতি থাকায় চট্টগ্রামের মানুষ মিরসরাইয়ের শীতকালীন সবজির জন্য অধীর আগ্রহে থাকেন।
জানা গেছে, উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় চলতি বছর ১১ শ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছয় শ’ হেক্টর জমিতে শিম, বাকি পাঁচ শ’ হেক্টর জমিতে লালশাক, পালং শাক, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করা হয়েছে।
উপজেলার মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের সাইফুল্লাহ জানান, তিনি ১৭ শতক জমিতে বেগুন ও ২২ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। জমিতে আর্দ্রতা তৈরি হয়ে যাওয়ায় অনেক চারা মারা গেছে। তবুও শেষ মুহূর্তে চারা পরিবর্তন করছেন যাতে লোকসান না হয়। আব্দুল হান্নান জানান, তিনি ১৫ শতক জমিতে ক্ষীরা চাষ করেছেন। সাথে সাথী ফসল হিসেবে লালশাকের বীজও ফেলেছেন। ক্ষীরার আগে লালশাক বিক্রির উপযোগী হয়ে গেছে। বাজারে লালশাকের এখন ভালো দাম।
একই এলাকার সাহাব উদ্দিন অভিযোগ করেন, তিনি ২০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ১৫ দিন আগে সব গাছ মারা যায়। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে কয়েকবার জমিতে গিয়ে কী জন্য মারা যাচ্ছে দেখে আসার অনুরোধ করলেও তিনি যাননি। তিনি আরো বলেন, শুধু আমার জমির লাউ গাছ নয়, আশপাশে আরো কয়েকজন চাষির লাউ গাছ মারা গেছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম বলেন, মিরসরাই উপজেলায় চাষ করা শীতকালীন শাক-সবজি এখনো পুরোপুরি বিক্রির উপযোগী হয়নি। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে শীতকালীন পুরোদমে বাজারে আসবে। আশা করছি অন্যান্য বারের তুলনায় কৃষকরা এবার ভালো দাম পাবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ রাহা বলেন, উপজেলায় ১১ শ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে। আরো জমি চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে। শীতকালীন সবজির ভাইরাসজনিত সব রোগের ব্যাপারে কৃষিসহায়তা দিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উপ-কৃষিসহকারীরা কাজ করছে বলে জানান তিনি।


আরো সংবাদ


premium cement

সকল