১৯ জানুয়ারি ২০২২
`

আত্রাইয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রেলের গেটকিপার

স্বেচ্ছাশ্রমে গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন মামুন: নয়া দিগন্ত -

নওগাঁর আত্রাইয়ে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করতে স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের অর্থায়নে রেলগেট নির্মাণ করে দিন-রাত নিরলসভাবে গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন দুই যুবক আনোয়ার ও মামুন। দু’জনই দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও তারা মানবসেবা হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় পাঁচ মাস ধরে। সরকারিভাবে এখানে গেটকিপার না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে সবাইকে বাঁচাতে তাদের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
সান্তাহার থেকে নাটোর পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশ দিয়ে তৈরি হয়েছে নওগাঁ-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক। নির্মিত হওয়ার পর থেকে সড়কটি বিনোদনপ্রেমীদের নতুন স্পটে পরিণত হয়েছে। যার ফলে প্রতিদিন এ মহাসড়কে শত শত মানুষ ঘুরতে আসে। এ ছাড়া উপজেলার রেবাহোসন, শিমুলিয়া, পৌঁতা, তেঘর, জামগ্রাম, তিলাবদুরি, ভোঁপাড়াসহ রেললাইনের পূর্ব এলাকার হাজার হাজার মানুষের নওগাঁ ও সান্তাহার শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ সড়ক এটি। শাহাগোলা রেলস্টেশনের দক্ষিণ দিকে বেড়া হাসনের রাস্তা থেকে রেললাইন পার হয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে শত শত যানবাহন। কিন্তু এতজনগুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও এখানে রেললাইন পারাপারে ছিল না কোনো ব্যবস্থাপনা। তাই শিমুলিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও পাশর্^বর্তী বেরাহোসন গ্রামের মামুন নিজ উদ্যোগে গেট নির্মাণ করে বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছেন। এখানে রোদ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতেও বানানো হয়েছে অস্থায়ী বেড়ার একটি ঘর।
আনোয়ার হোসেন ও মামুনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের সাথে রয়েছে শাহাগোলা ও আত্রাই গেটকিপারদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ। তাদের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রতিনিয়ত ট্রেন আসার আগেই গতিরোধক ব্যারিয়ার সিগন্যাল ফেলে যানবাহনের গতি রোধ করা হয়।
আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার ছাইফুল ইসলাম জানান, এ লাইনের ওপর দিয়ে দিন রাতে ১৪ জোড়া যাত্রীবাহী ও কয়েকটি মালগাড়ি চলাচল করে। দুর্ঘটনার হাত থেকে সবাইকে বাঁচাতে দুই বন্ধুর এই উদ্যোগ আসলেই প্রশংসনীয়। এখানে একটি স্থায়ী রেলগেট প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।


আরো সংবাদ


premium cement