১৮ জানুয়ারি ২০২২
`

লামায় জালিয়াতি করে দেড় হাজার একর জমি দখল!

-

বান্দরবানের লামা উপজেলার কেয়াজুপাড়ার আতঙ্কের নাম দস্তগীর সিকদার মানিক ওরফে মানিক সিকদার। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী সিকদার। মানিক সিকদারের জালিয়াতি-জবর দখল আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কেয়াজুপাড়ার গরিব অসহায় পরিবারগুলো। বিগত কয়েক বছরে প্রায় দেড় হাজার একর জমি তিনি ও তার বাবা মিলে জালিয়াতি করে জবর দখল করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট মহলে লিখিত অভিযোগও করেছেন। বর্তমানে এলাকায় কেউ দোকান বাড়ি করলে বা নিজ বাগানের গাছ কাটতে গেলে তার সাথে বোঝাপড়া করতেই হয়। অন্যথায় তার বাহিনী গিয়ে হাজির হয়। বিগত দুই বছরে তিনি আন্দারী গ্রামের বৃদ্ধ সাহেব আলী তালুকদারের ৩৫ একর জমি জবর দখল করে তাকে এলাকাছাড়া করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সাহেব আলী তালুকদার জানান, কেয়াজুপাড়ায় যে জায়গাটি মানিক সিকদারের পছন্দ হবে সেই জায়গা যেকোনো উপায়ে তিনি জবর দখল করে নেবেন। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ শ’ একর জমি মানিক সিকদার জবর দখল করেছেন বলে সাহেব আলী তালুকদার জানিয়েছেন। এখন একই এলাকার পুইট্যা ঝিরি পাড়ায় সালেহা বেগম নামে এক বিধবার ২৫ একর জমি জবর দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সালেহা বেগম বলেন, মানিক সিকদার ইতোমধ্যে তার বাড়ি দু’বার পুড়িয়ে দিয়েছেন। ভয়ে তার একমাত্র সন্তানকে তিনি এলাকায় রাখতে পারে না। রাত হলে মানিক সিকদারের লোকজন তার বাড়ির আশপাশে অবস্থান করে। সম্প্রতি তিনি লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এ দিকে এক বছর আগে কেয়াজুপাড়া বাজারে মোহাম্মদ হানিফ নামের এক কৃষকের জমি একদল সন্ত্রাসী নিয়ে জবর দখল করতে যায়। কিন্তু স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সে যাত্রায় হানিফের পরিবার মানিক সিকদারের হাত থেকে রক্ষা পায়। তবে কয়েক দিন আগে মানিক সিকদার মোহাম্মদ হানিফের পাকা ধানে আগাছা মরার বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। বর্তমানে হানিফের পরিবারের মানিক সিকদারের ভয়ে তটস্থ রয়েছে বলে জানান। একই এলাকায় বিধবা আছমা বেগম তার বসতবাড়ির পাশে পাঁচটি পাকা দোকান নির্মাণ করে। কিন্তু মানিক সিকদারের সাথে বোঝাপড়া না করার কারণে বিধবাকে আর দোকানের টিন লাগাতে দেয়নি। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তার দোকানের ছাদের সব মালামাল নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান আছমা বেগম।
স্থানীয়রা জানান, মানিক সিকদারের বাড়ি লামা উপজেলার সীমানা চট্টগ্রামের পুটিবিলা এলাকায়। যার কারণে মানিক সিকদার লামার কেয়াজুপাড়ায় সন্ত্রাসী কাজ চালিয়ে তার বাহিনী নিয়ে সহজে লোহাগাড়ায় চলে যায়। এ ছাড়াও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে মানিক সিকদারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।


আরো সংবাদ


premium cement