৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৩ চাকার যান

-

সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। আইনের তোয়াক্কা না করে দূরপাল্লার যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে দিব্যি চলছে তিন চাকার এই যান। এ কারণে সড়কে কমছে না দুর্ঘটনা। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় দুই বছর আগে মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করলেও তা বন্ধ হয়নি। ঘন ঘন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির জন্য এ ধরনের যান বহুলাংশে দায়ী হলেও কিছুতেই মহাসড়কে এগুলোর চলাচল থামানো যাচ্ছে না। অল্প-মাঝারি দূরত্বে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে তীব্র চাহিদা থাকায় এবং গরিবদের জীবিকার প্রয়োজনে এগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। সরকার বিকল্প ব্যবস্থাও করছে না। স্থানীয় সরকারের অনুমতি নিয়ে ও চাঁদাবাজদের সন্তুষ্ট করে মহাসড়কে তিন চাকার যান চালু রয়েছে। ফলে মহাসড়কে নিরাপত্তায় ভয়াবহ ঝুঁঁকি থেকেই যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাজনীতিকদের সহায়তাতেই অবৈধ যান চলাচল করে মহাসড়কে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা বলেন, বিগত পাঁচ বছরে এবং বর্তমানে যেসব অটোরিকশা আমদানি করা হয়েছে এর অর্ধেকের বেশির লাইসেন্স পায়নি। কিন্তু স্থানীয়ভাবে সাপ্তাহিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা দিয়ে চলাচল করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, নিয়ম না মেনে সিলেট-ঢাকা ও সুনামগঞ্জ-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে চলছে তিন চাকার যানবাহন। জেলার প্রতিটি ব্যস্ততম সড়কে অবাধে চলাচল করছে এসব যানবাহন। মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সাথে পাল্লা দিয়ে সিএনজিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা, টেম্পো, ব্যাটারিচালিত টমটম ও রিকশা চলছে। মাসিক চাঁদার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিশেষ স্টিকার লাগিয়ে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
জানা যায়, সরকার ২০১৭ সালে দেশের ২২টি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। তারপর কেটে গেল প্রায় দুই বছর। এখনো নিরাপদ হয়নি মহাসড়ক। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নজরদারি কম থাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছে না চালক ও পরিবহন মালিকরা। বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লক্কড়ঝক্কর তিন চাকার যানবাহন। এতে প্রতিদিন মহাসড়কে ছোটখাটো দুর্ঘটনার পাশাপশি প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা।
বাস ও ট্রাক চালকরা জানায়, অটোরিকশা হঠাৎ করে রাস্তার মাঝখানে থেমে যাওয়া কিংবা হঠাৎ করে রাস্তার মাঝখানে চলে আসার কারণেই ঘটে দুর্ঘটনা। ছোট গাড়ি হওয়ার পরও তারা বড় গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিয়ে আসা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এ দিকে মাসে হাজার বা এর অর্ধেক টাকা চাঁদার বিনিময়ে বিশেষ স্টিকার লাগিয়ে সিলেটের মহাসড়কে চলছে সিএনজি অটোরিকশা। চালকরা বলছে, পুলিশকে দেয়ার কথা বলে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তুলছে এই চাঁদার টাকা।
এক সিএনজি অটোরিকশা চালক বলে, হাইওয়েতে চলার জন্য টোকেন আছে। এই টোকেন প্রতিমাসে ৭০০ টাকা দিয়ে নিয়ে থাকি। এই চাঁদা লেনদেনের কারণেই সরকারি নির্দেশনার পরও সিলেটের মহাসড়কে বন্ধ করা যাচ্ছে না তিন চাকার যানবাহন। আরেকজনের অভিযোগ, পুলিশের মাসিক চাঁদা এটা। হাইওয়েতে আমরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দেই।
এদিকে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে পুলিশ বলেছে মহাসড়কে কোনোভাবেই চলতে দেয়া হবে না তিন চাকার যান। বিষয়টি নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের সাথে কথা হয়। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে যারা টাকা তোলে তাদের ধরিয়ে দেয়ার কথা বলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ। তিনি বলেন, চত্বর থেকে শুরু করে ঢাকা মহাসড়ক পর্যন্ত তিন চাকার সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক ও রিকশা এসব চলতে দেয়া হচ্ছে না। সড়কে তাদের দেখামাত্র আটক করার পাশাপাশি মামলা দেয়া হচ্ছে।



আরো সংবাদ