৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

জীবননগরে চলছে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

-

ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। আর এর প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। ঋতু বৈচিত্র্যে এখন হেমন্তকাল। সন্ধ্যায় ঠাণ্ডার পরশ আর রাতের শেষে হালকা কুয়াশা জানান দেয় শীতের আগমনী বার্তা। আর সেই বার্তা শুরু হতেই খেজুর রস সংগ্রহে আগে ভাগেই গাছকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের গাছিরা। যতই দিন যাচ্ছে ততই গ্রামীণ জনপদে ভোরে শিশিরের সাথে শীত অনুভূত হচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যেই শুরু হবে গাছিদের রস আহরণ। রস গুড় পাটালির ম ম গন্ধে মেতে উঠবে গ্রাম বাংলার জনপদ।
২০-২৫ বছর আগেও বাড়ির আঙ্গিনা, ক্ষেতের আইল, পতিত জমির ঝোপ-জঙ্গল ও রাস্তার দু’ধারে দেখা যেত শত শত খেজুর গাছ। কোনো যতœ-পরিচর্যা ছাড়াই প্রকৃতিগতভাবে বেড়ে উঠত এসব খেজুর গাছ। এসব খেজুর গাছের রস দিয়ে তৈরি হতো সুস্বাদু গুড় পাটালি। কিন্তু সচেতনতার অভাবে পতিত জমিতে বেড়ে ওঠা পরিবেশবান্ধব খেজুর গাছ এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব এই গাছ। ফলে দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে গাছির অভাবেও সেই আগের মতো আর গাছ কাটা হয় না।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারমিন আক্তার বলেন, শুধু জীবননগর উপজেলায়ই নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই এখন খেজুর গাছ বিলুপ্তির পথে। গাছিরা অত্যন্ত শিল্পদক্ষতা আর চরম ধৈর্যের সাথে খেজুর গাছ ডাল কেটে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলে। আর এজন্য শীত মৌসুম আসার সাথে সাথে গাছিদের কদরও বেড়ে যায়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উপজেলায় খেজুর গাছের আবাদ না হলেও জমির আইলে কিংবা পতিত জমিতে থাকা গাছ থেকে গাছিরা প্রতি বছর রস, গুড় ও পাটালি উৎপাদন করে থাকে। এ থেকে কৃষকরা প্রতি বছর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও হয়। তবে ইটভাটায় গাছ বিক্রিসহ নানা কারণে উপজেলা থেকে খেজুর বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।



আরো সংবাদ