২৮ অক্টোবর ২০২১
`

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ যান

-

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দেদার চলছে নিষিদ্ধ যানবাহন। এর মধ্যে রয়েছে অননুমোদিত সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, লেগুনা ও মালবাহী ভটভটি। সড়কে এসব যানের কারণে প্রতিনিয়তই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এসব নিষিদ্ধ যানবাহনের কারণে মহাসড়কে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকায় লেগুনার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে বেশ বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত বছরের ২১ মার্চ একই স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত হন।
সূত্র জানায়, গত ৮ আগস্ট একই সড়কের আমিরাবাদ কিল্লার আন্দর এলাকায় মালবোঝাই ট্রাক ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় ট্রলি চালক জসিম উদ্দিনের একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই মাসের ৩ তারিখ মহাসড়কের আমিরাবাদ গোলাম নবী হাজির পাড়া এলাকায় মালবাহী ট্রাক্টরের ধাক্কায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সড়ক ও পরিবহন আইনের তোয়াক্কা না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই মহাসড়কে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ সব যানবাহন। মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী, পদুয়া বাজার, বটতলী মোটর স্টেশন, আধুনগর ও চুনতিতে গড়ে উঠেছে নিষিদ্ধ গাড়ির স্টেশনও। বটতলী মোটর স্টেশনে মহাসড়কের উভয় পাশ লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও মালবাহী ভটভটির দখলে। এতে করে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব যান ফুটপাথ দখল করে রাখায় স্টেশনে আসা লোকদের চলাচলেও পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। অপ্রশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক দিয়ে মহাসড়কে দাপটের সাথে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল করায় দুর্ঘটনা বাড়ছেই।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালালেও বহাল তবিয়তে থেকেই যাচ্ছে অভিযুক্তরা। মিলছে না কোনো প্রতিকারও। এছাড়া কোনো ভিআইপি মহাসড়ক অতিক্রম করার খবরে আগে থেকেই নিষিদ্ধ গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ভিআইপি চলে যাওয়ার পর ফের মহাসড়ক দখলে নেয় নিষিদ্ধ যানগুলো।
নিরাপদ সড়ক চাই লোহাগাড়া শাখার আহ্বায়ক মোজাহিদ হোসাইন সাগর জানান, মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি ও লেগুনা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দাপটের সাথে চলছে এসব নিষিদ্ধ গাড়ি। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানিও। মহাসড়কে নিষিদ্ধ এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
লোহাগাড়া ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মাহমুদুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ভ্যান, লেগুনা ও মালবোঝাই ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ। তবে মহাসড়কের উভয় পাশে ৩০ ফুট পর্যন্ত দেখার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের। তবে স্টেশনে যানজট নিরসনে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি আবদুর রব জানান, মহাসড়কে নিষিদ্ধ গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি গাড়ি আটক করে মামলা দেয়া হচ্ছে। মাসোহারা নিয়ে মহাসড়কে নিষিদ্ধ গাড়ি চলাচল করতে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে দাবি করেন আব্দুর রব।



আরো সংবাদ