২৮ অক্টোবর ২০২১
`

সোনারগাঁওয়ে ড্রেজিংয়ের নামে অবৈধ বালু উত্তোলন : কৃষিজমি বিলীন

-

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের নাম করে মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় নামধারী আওয়ামী লীগ নেতারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ওই এলাকায় অর্ধশতাধিক কৃষকের ফসলিজমি ভেঙে নদে চলে যাচ্ছে। কেউ অবৈধ এ বালু কাটার প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেয় বালু উত্তোলনকারীরা। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জরুরিভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করছেন, নতুবা এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুকিমপুর, ঝালুকান্দি ও গোবিন্দপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের নামে মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলন করায় কৃষকের কৃষিজমি ভেঙে নদে চলে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নামধারী নেতা মহজুমপুর কাজীপাড়া এলাকার তোফাজ্জলের ছেলে মোহাম্মদ মহসিন, বশিরগাঁও গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে মোমেন মিয়া ও ওই এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে মামুনের নেতৃত্বে ১৮ জনের একটি সিন্ডিকেট দেদারছে বালু উত্তোলন করছে। তারা জামপুর ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মিরেরবাগ,বশিরগাঁও, ঝালুকান্দি, মুকিমপুর, গোবিন্দপুর, চরপাড়া, মহজমপুর,বুরুমদী গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের কোলঘেঁষে মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলন করায় ওই এলাকায় অর্ধশতাধিক কৃষকের ফসলি জমি ভেঙে নদে চলে যাচ্ছে।
কৃষকরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে রাতদিন মহসিন, মোমেন ও মামুনের নেতৃত্বে ১৮ জনের একটি সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন করছে। এ সিন্ডিকেটের বালু উত্তোলনের কারণে ওই এলাকার তিন একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ওই এলাকার হাজী মজিদ ভূইঁয়া মাদরাসা, মিরেরবাগ ঈদগাহ, মুকিমপুর, মিরেরবাগ কবরস্থানের জায়গা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন কৃষককে মামলা ও হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। ড্রেজার বসানোর সময় মহজমপুর কাজীপাড়া এলাকার জহিরুলের ছেলে স্কুলছাত্র তাওসিদ অবৈধ ড্রেজার বসানোর কথা বললে তাকে মহসিন ও তার লোকজনেরা মারধর করে। এতে করে ওই এলাকার সাধারণ কৃষকরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এলাকাবাসী এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছে।
মিরেরবাগ গ্রামের বিল্লাল হোসেন প্রধান ও লতিফ ভূঁইয়া জানান, নদী ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন আছে। ১০-১৫ ফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিন্ডিকেট নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে প্রায় ৬০-৬৫ ফুট গভীর করে বালু উত্তোলন করায় কৃষিজমি ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। মুকিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন ও বকুল মিয়া জানান, এই সিন্ডিকেট ব্রহ্মপুত্র নদে তাদের গ্রামঘেঁষে তিন-চারটি ড্রেজার দিয়ে ডেজিংয়ের নাম করে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে। বালুকাটার সাথে যারা জািড়ত তারা এলাকার ভূমিদুস্য, মাদককারবারি, বখাটে, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী। তাই কেউ বালু কাটার প্রতিবাদ করতে পারে না। ড্রেজার দিয়ে বালু কাটার সময় ওই এলাকায় বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক গ্রামবাসী জানান, বশিরগাঁও গ্রামে মামুন এলাকায় সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং ও মাদককারবার নিয়ন্ত্রণ করে। সে এই বালু কাটা সিন্ডিকেটের একজন। সে বিভিন্ন মামলার আসামিও। সে-ই বালু কাটার সময় বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী মহড়া দেয়। আর মহসিন সিন্ডিকেটের টাকা-পয়সার হিসাবের সাথে জড়িত।
এ দিকে অভিযুক্ত মোহাম্মদ মহসিন জানান, বালু উত্তোলনের সাথে তিনি জড়িত নন। তবে বুরুমদী এলাকার নীরব নামে এক ছেলে লোকজন নিয়ে সিন্ডিকেট করে এ কাজ করছে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে কৃষকের ক্ষতি হবে এমন কোনো কাজ করতে দেয়া যাবে না। এ বিষয়ে আগেও উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে কথা হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।



আরো সংবাদ