২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

লকডাউনে পরিবহন শ্রমিকদের দুর্দিন গাড়ির সাথে বন্ধ জীবনের চাকাও

লকডাউনে বাস বন্ধ তবুও টার্মিনালে আসেন শ্রমিকরা। অপেক্ষা করেন বাস চালু হওয়ার: নয়া দিগন্ত -

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মানিকগঞ্জের ঘিওরে প্রায় ছয় শতাধিক পরিবহন শ্রমিক টানা লকডাউনে আয়শূন্য। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভর দুপুর। শ্রাবণের বৃষ্টিজলে একাকার ঘিওর বাসস্ট্যান্ড টার্মিনাল। পাশের ছাপড়া ঘরে বসে আছেন কয়েকজন। সবার মুখেই মাস্ক কিন্তু মাস্কের ওপরে খোলা চোখে এক রাশ হতাশা আর দুশ্চিন্তার ছাপ। আলাপচারিতায় কয়েকজন বাসের স্টাফ জানান, কাজকর্ম নেই, তারপরও বাসগুলোর মায়ায় টার্মিনালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। লকডাউন শেষ হওয়ার আশায় দিন গুনছেন এসব শ্রমিক। যেই বাসের তাদের জীবিকা সেই বাস আজ চলছে না। চলছে না তাদের জীবিকার চাকাও।
তারা জানান, জমানো টাকা যা ছিল তা লকডাউনের প্রথম দিকেই শেষ হয়ে গেছে। এখন ধার-দেনা করে কোনো রকম দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। অপেক্ষা কবে খুলবে বাস। এরই মধ্যে অনেকে এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। রাজমিস্ত্রির হেলাপার, রিকশা, অটোরিকশা চালানো কিংবা ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করছেন অনেকে। কেউ আবার দিনমজুর হিসেবে বেছে নিয়েছেন ঘরবাড়ি-কলকারখানার কাজ।
আবার অনেকে আছেন যারা ছোট পরিবহন ব্যবসায়ী। ব্যাংক লোন কিংবা কিস্তিতে কেনা গাড়িতে নেই কোনো আয়। তাদের অবস্থাও খুব খারাপ। গাড়ি বন্ধ থাকায় সংসারেও চলছে টানা পোড়েন। বাস মালিক মনির হোসেন বলেন, আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। শ্রমিকদের অবস্থা আরো শোচনীয়। সরকারি পর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকদের সহায়তা দিলে দু’বেলা খেয়ে বাঁচতে পারবে তারা।
ঘিওর থেকে ঢাকা রুটের ভিলেজ লাইন পরিবহনের চালক ঘিওরের বেপারি পাড়ার বখতিয়ার বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। জমানো টাকা বলতে কিছু নেই। লকডাউন, চাক্কা বন্ধ। আমরা কী খাব, কী করব, তা ভেবে পাচ্ছি না। এভাবে আর কত দিন। অপেক্ষার তো একটা শেষ আছে। কিন্তু আমরা যেন একটা দুষ্টু চক্রের মধ্যে পড়ে গেছি। শুধু অসহায় বসে আছি শরীরে শক্তি থাকলেও হাতে কাজ নেই। কে শুনবে আমাদের কথা?’
বাসের সহকারী ঘিওরের করটিয়া এলাকার মান্না বলেন, গাড়ির চাক্কা না চললে আমাগোর পেটও চলে না। তাই বাধ্য হয়ে রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ করি। টুকটাক কাজ করে কোনোমতো সংসারে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি।
পরিবহন শ্রমিক কুস্তা গ্রামের জাবেদ ও আমিন বলেন, বউ-পোলাপান নিয়া কী খাবো, এই চিন্তায় ঘুম আসে না। ধার-দেনা করতে করতে এখন আর পারছি না।
ঘিওর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মজনু মিয়া বলেন, আমার জানা মতে ঘিওর উপজেলার প্রায় ছয় শতাধিক পরিবহন শ্রমিক নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। সরকারি, বেসরকারি কিংবা মালিকরা সমিতির কেউ শ্রমিকদের লকডাউনের স্থবির সময়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেননি। আশা করছি, সরকার পরিবহন শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে একটি ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।
বানিয়াজুরী গ্রামের বাস চালক লুৎফর বলেন, দিনে ৬০০ টাকা বেতনে কাজ করতাম। কিন্তু পরিবহন বন্ধ কিংবা লকডাউনে কাজ নেই। পাঁচজনের সংসার। অনেক টাকা ঋণ করেছি। বাকিতে চাল, ডাল কিনেছি। এখন আর কুলাচ্ছে না।
শ্রমিক বা মালিকদের সহায়তায় সরকারি কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানান পরিবহন শ্রমিক ও সমিতির নেতারা। ইতোমধ্যে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উপজেলা ও জেলা প্রশাসক এবং পরিবহন মালিক সমিতির কাছে সহায়তার জন্য তাদের অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, নির্দিষ্ট করে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশনা পাইনি। তবে দরিদ্র মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হবে, তাদের স্ব স্ব এলাকার পরিবহন শ্রমিকদের নামের তালিাকা তৈরি করে সহায়তা প্রদানের জন্য। এই সঙ্কটকালে পরিবহন শ্রমিকদের পাশে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতাদের সহায়তার হাত বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল