২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮ আশ্বিন ১৪২৮, ১৫ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

রাজাপুরে ধানি জমি অনাবাদি : চাহিদা মেটাতে আসছে অন্য জেলার চাল

রাজাপুরে আউশ মৌসুমে অনাবাদি রয়েছে হাজার হাজার একর ধানী জমি: নয়া দিগন্ত -

ঝালকাঠির রাজাপুরে নানা সমস্যায় আউশ ধান চাষ করা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে কৃষকরা। দীর্ঘ সময় ধরে শুধু আমন ধান চাষ করা হচ্ছে। আউশ মৌসুমে কয়েক হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকায় একদিকে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অপর দিকে স্থানীয় চাহিদা পূরণে অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
উপজেলা সদরের চাল ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, রংপুর, রাজশাহী ও নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলা থেকে চাল এনে এই উপজেলার চালের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এই উপজেলার কৃষকরা শতভাগ জমিতে আউশ ধান চাষ করে না। বর্তমানে জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আউশ ধান কাটার মৌসুম থাকলেও কোথাও তেমন কোনো ধান কাটা বা মাড়াই করার দৃশ্য চোখে পড়ছে না।
এক সময় উৎপাদিত চাল দিয়ে এলাকাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হতো। ৩৫-৪০ বছর আগে এই উপজেলায় প্রতি বছর তিন মৌসুমে বোরো, আউশ ও আমন ধান চাষ করা হতো। কয়েক বছর আগে থেকে বোরো ধানের চাষ করা হয় নামমাত্র। আউশ ধানের চাষ করা হয় সামান্য পরিমাণে। উপজেলার রবিন সিকদার, নান্নু সিকদার, আলমগীর, বাবুল ও আবুল কালামসহ একাধিক কৃষক বলেন, শ্রমিক ছাড়া কৃষকের একার পক্ষে জমি চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এলাকার শ্রমিকরা অটো, ভ্যান, রিকশা ও টেম্পুসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উপার্জন করছেন। কাদা-পানিতে কৃষি কাজ করার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান প্রজন্ম প্রবাসে বা বিভিন্ন শহরে চাকরি করছেন। সময় মতো শ্রমিক ও পাওয়ারটিলার পাওয়া যায় না। খাল-বিলে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ঠিক সময়ে জমিতে পানি উঠে না এবং পানি উঠলে আর নামে না। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। উপজেলার পূর্ব সিমানায় বিষখালী ও জাঙ্গালিয়া নদীতীরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নেই। এরকম বেশ কিছু সমস্যার কারণে আউশ ধান চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজউল্লাহ বাহাদুর বলেন, ধান চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর। এ বছর বোরো ধান চাষ করা হয়েছে ১৭৮ হেক্টর জমিতে, আউশ ধান চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে এবং আমন ধান চাষের জন্য অনাবাদি রয়েছে ৬ হাজার ৯৯২ হেক্টর। ধান ও চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রেরণায় এলাকার কৃষকরা দিন দিন ধান চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু উপজেলার অধিকাংশ জমি আউশ ধানের চাষের আওতায় আনতে হলে উপজেলার সব নদী-নালা ও খাল খনন করা ও কমপক্ষে ২০০ পাওয়ারটিলারের ব্যবস্থা কার, কৃষকদেরকে প্রণোদনা ও সুদমুক্ত কৃষিঋণ দেয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা উচিত।



আরো সংবাদ


ইরানের জেনারেল সোলাইমানির হত্যাকারী মার্কিন ও ইসরাইলি ২ কমান্ডার নিহত (২০৬৪৮)মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান (৮৫৩৬)অন্য দেশে পাচার হচ্ছে আফগান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়াযান (৮০৯৩)ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সংঘাত সমাধানের ‘উত্তম পন্থা’ : বাইডেন (৭৯৭৯)সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে জাতিসঙ্ঘকে চিঠি দিল তালেবান (৭৭২৬)অন্যদেশে পাচার হচ্ছে আফগান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়াযান (৬৯৩৫)শিশু সন্তানকে হত্যা পর মায়ের আত্মহত্যা (৬৫৩৫)ড. মাহফুজুরকে ছেড়ে আসায় ট্রল, যা বললেন ইভা (৬১২৫)নতুন ঘরে বসবাস করা হলো না স্বামী-স্ত্রীর (৫৯৭৩)জামায়াতের কাছে হারল আ’লীগ প্রার্থী (৫৬৪৫)