১৯ জুন ২০২১
`

আরিচা কাজীরহাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

-

পাবনার নগরবাড়ী ও কাজীরহাটে মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আসছে হাজার হাজার যাত্রী। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়েই পারাপার হচ্ছে তারা। হঠাৎ সরকার ফেরিতে যাত্রী চলাচল বন্ধ করে দিলে বিকল্প পথে চাপ বেড়ে যায়।
স্বজনের সাথে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে আসছে সবাই। নিয়মিত ভাড়ার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। লঞ্চ এবং স্পিডবোট বন্ধ থাকায় নিরুপায় হয়ে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়াতেও আসতে বাধ্য হচ্ছে। এতে এক দিকে যেমন বাড়ছে জীবন ঝুঁকি অপর দিকে বাড়ছে করোনার সংক্রমণের আশঙ্কা।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে আরিচা থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো আরিচা থেকে যাত্রী নিয়ে কাজীরহাট ফেরিঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাজধরদিয়া নামের চরে সুবিধাজনক স্থানে নামিয়ে দিচ্ছে। সেখান থেকে যাত্রীরা হেঁটে সড়কে উঠছে। যেসব স্পটে পুলিশের দেখা মিলছে না সেসব স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে যাত্রী পারাপারের নৌযান হলো স্পিডবোট, লঞ্চ এবং ফেরি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউন থাকায় প্রায় এক মাস ধরে এ ধরনের নৌযানের চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশের তৎপরতার কারণে নির্ধারিত ঘাট থেকে যাত্রী ওঠানামা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা অন্য স্পট বেছে নিয়েছে। এতে যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে থাকলেও নৌকার মালিকদের ইনকামও হচ্ছে কয়েক গুণ।
যাত্রীদের অভিযোগ, আরিচা থেকে কাজীরহাট সাধারণ সময়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রী প্রতি ভাড়া নেয়া হতো ৮০ টাকা; কিন্তু এখন নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। অর্থাৎ যার কাছ থেকে যত নেয়া যায়। কিন্তু প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়ার সুযোগ না থাকায় যাত্রীরা নিরুপায়। আর এই সুযোগ নিচ্ছে নৌকা মালিকরা। এ ছাড়াও কাজীরহাট থেকে কাশিনাথপুর সিএনজির ভাড়াও স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি নিচ্ছে।
পাবনা সদর উপজেলার যাত্রী আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, আমি ঢাকাতে রোগীর কাছে যাবো; কিন্তু যাওয়ার কোনো উপায় নেই। দুই ঘণ্টা কাজীরহাটে দাঁড়িয়ে আছি; কিন্তু কোনো ফেরি-লঞ্চ পাচ্ছি না। নৌকায় যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। নৌকাতেও ইচ্ছা মতো ভাড়া নিচ্ছে। কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
সুজানগর উপজেলার মানিকহাট গ্রামের শামসুল প্রামাণিক জানান, ঢাকা থেকে বাড়ি আসতে আরিচা-কাজীরহাট হয়ে যেখানে ভাড়া লাগে ৩০০ টাকা। আর আজকে আমার খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা।
কাজীরহাটে দায়িত্বরত আমিনপুর থানার এসআই রকিব বলেন, লঞ্চ ও স্পিডবোট তো বন্ধ আছে। শুধু মালামাল বোঝাই ট্রাক ফেরিতে পারাপার হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেও সুযোগ বুঝে দুই-একটি নৌকা যাত্রী নিয়ে আসছে। আমরা তৎপর আছি। চোখে পড়লেই তাদের গ্রেফতার করব।
পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, প্রশাসনের কড়া নির্দেশ দেয়া আছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইঞ্জিনচালিত দুই-একটা নৌকা চলাচলের অভিযোগ আমি পেয়েছি। সেগুলোও যেন আর চলতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। তবে জনসাধারণকে আরো সচেতন হতে হবে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে সবাইকে সেক্রিফাইস করতে হবে।

 



আরো সংবাদ