১৯ জুন ২০২১
`
কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহারে উপকৃত কৃষক

ধান কাটার পর ক্ষেতেই হচ্ছে মাড়াই, বস্তাভর্তি ষ

-

ঝালকাঠি জেলায় সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ক্রয় করা কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনে মাঠপর্যায়ে কৃষকের ধান কাটা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে এই মেশিনের সাহায্যে ঘণ্টায় এক একর জমির ধান কেটে মাড়াই-ঝাড়াই হয়ে বস্তাভর্তি করা যায়। ফলে ধান কাটার কিষান মজুরি সাশ্রয় হয়, অল্প সময়ে বেশি জমির ধান কাটা যায় এবং বাড়িতে নিয়ে ঝাড়াই-মাড়াই করার প্রয়োজন হয় না। কৃষক ধান বস্তাবন্দী করে মাঠ থেকেই বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছেন।
কম সময়ে মেশিনে ধান কেটে মাড়াই করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছেন কৃষক হুমায়ুন কবির। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় বাসন্ডা ইউনিয়নের আগরবাড়ি গ্রামের আদর্শ কৃষক হুমায়ুন কবির ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকল্পের সহায়তা নিয়ে এই মেশিন কিনেছেন। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, ২৮ লাখ টাকা মূল্যের মেশিনটির জন্য সরকার ৫০ শতাংশ হারে ১৪ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। হুমায়ুন কবির নিজের জমির ধান কাটার পরে মেশিনটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদের জন্য যান্ত্রিকীকরণের ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছে এবং সরকার কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য কৃষকদেরকে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। হুমায়ুন কবির গত ২১ এপ্রিল কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন কিনে এনে ২৩ এপ্রিল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ধান কাটা শুরু করেছেন। গত ১৫ দিনে হুমায়ুন কবির আড়াই লাখ টাকা আয় করেছেন।
হুমায়ুন কবির জানান, বিভিন্ন এলাকায় মেশিন নিয়ে গিয়ে ৫০ একর জমির ধান কেটেছেন। তার ধান কাটার এই ব্যবসায় মেশিন চালনাসহ ছয়জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি প্রতি একর ধান কাটার জন্য আট হাজার টাকা করে নেন। তিনি জানান, এক একর জমির ধান কাটার জন্য এক হাজার টাকার প্রায় ১২ লিটার জ্বালানি তেল খরচ হয়। তার কাছে এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। সদর উপজেলার আগরবাড়ি গ্রামের নাসির উদ্দিন হাওলাদারের ধান কাটা দেখার জন্য এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, এই মেশিন দিয়ে ধান কাটায় তার কৃষাণ খরচ অর্ধেক লেগেছে এবং ধান ঝাড়াই-মাড়াইয়ের জন্য অনেক সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়েছে। একই এলাকার প্রবীণ কৃষক জানান, এলাকায় ধান কাটার জন্য কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাদের দিয়ে ধান কাটার খরচ অনেক বেশি। এ ধরনের মেশিন ব্যবহার করে কৃষকরা নতুন আশার বীজ বপন করতে পারছেন।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক চাষাবাদের জন্য যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। ঝালকাঠি জেলায় বোরো আবাদের ৭৫ ভাগ কাটা শেষ হয়েছে। কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কৃষক ধান কাটার সাথে সাথে মাড়াই-ঝাড়াই করে বস্তাবন্দী করে নিতে পারছেন। এতে কৃষকের ধান কাটা ও মাড়াই খরচের সাশ্রয় হচ্ছে। ধান কাটায় সময় কম লাগছে।

 



আরো সংবাদ