১২ এপ্রিল ২০২১
`

লক্ষ্মীপুরে রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম

-

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার খাসেরহাট বাজারসংলগ্ন বেড়ি থেকে মোল্লারহাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারকাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের পাথর ব্যবহার ও ভিটুমিনের পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে রাস্তা কার্পেটিং করার অভিযোগ এনেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ দিন মেরামতের অভাবে এ সড়কের অবস্থা নাজুক থাকায় রায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে স্থানীয়দের। এলজিইডি গত বছর ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার হাইড্রো ট্রেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়। ২৮ এপ্রিলের মধ্য কাজ সম্পূর্ণ করতে বলা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকে নিম্নমানের পাথর ব্যাবহার ও ভিটুমিনের পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ করা শুরু করে তারা। এ ছাড়া কাজটি হাইড্রো ট্রেডকে দেয়া হলেও ওই কাজ দেখাশোনা করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মানিক পাটোয়ারী। এতে এক দিকে রাষ্ট্রের অর্থ লুট হচ্ছে, অন্য দিকে উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম পাটওয়ারী। তিনি বলেন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংস্কার কাজটি সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। অবশ্য স্থানীয়রা জানায়, গত মঙ্গলবার থেকে আগের মতোই কাজের মধ্যে অনিয়ম অব্যাহত রেখে কাজ আবার চলছে।
এলজিইডি জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাজটিতে বরাদ্দ করা হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫১ টাকার ৭৫ পয়সা খোয়া ধরা হয়েছে। ৬৭ হাজার ৪৮৮ টাকার বালু ধরা হয়েছে। এ ছাড়া দেড় ইঞ্চি কার্পেটিং ধরা রয়েছে। ১৬, ১২, ৬ পাথর ও ডাস পাথর ধরা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদার রাস্তায় নতুন কোনো খোয়া ব্যবহার করছেন না। এ ছাড়া রাস্তার পাশ থেকেই গর্ত করে মাটি কেটে ফুটপাথ বাঁধানো হয়েছে। কার্পেটিং করা হচ্ছে কয়েকটি স্থানে নামমাত্র ভিটুমিন দিয়ে। তা ছাড়া মরা পাথর (নিম্নমানের) দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মানিক পাটোয়ারী বলেন, আমি অত্যন্ত মানসম্মত কাজ করছি, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়, আমি এলসির পাথর ব্যবহার করেছি, কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। এলজিআরডির কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন তা ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে পরিদর্শন করেছেন।
নির্বাহী নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম পাটওয়ারী নয়া দিগন্তকে বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু কিছু অনিয়ম এর সত্যতা পেয়েছি। কিছু সংশোধনের চেষ্টা করেছি এবং এ জন্য তার জরিমানা হবে। আমার সহকর্মীরা এখন মাঠে আছে।

 



আরো সংবাদ