১২ এপ্রিল ২০২১
`

ভিয়েতনামি নারিকেল চাষে সম্ভাবনা

-

পটুয়াখালীর দশমিনায় সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে উচ্চফলনশীল ছোট জাতের ভিয়েতনামি নারিকেল চাষ। অধিক লাভবান হওয়ায় স্থানীয়রা এই জাতের নারিকেল চাষের দিকেই ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ডাবের চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এবং পূর্ব পুরুষের ভিটে মাটিতে রোপণকৃত নারিকেল গাছের ফলনও কম হওয়ায় উচ্চফলনশীল নারকেল চাষকেই সবাই শ্রেয় মনে করছেন।
সূত্র জানায়, বছরের সব মৌসুমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীনে এই জাতের নারিকেল চারা বিক্রি হয়। এই গাছের চারার প্রতি কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে। পটুয়াখালীর দশমিনায় সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে ছোট জাতের নারিকেল চাষ। কম জমিতে অধিক উৎপাদন ও লাভজনক হওয়ায় কৃষক ছাড়াও সাধারণ মানুষ উচ্চফলনশীল ছোট জাতের নারিকেল চাষে ঝুঁকছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের মে মাসে উপকূলীয় উপজেলায় ছোট জাতের নারিকেলর চারা রোপণ ও সম্প্রসারণ কর্মসূচি শুরু হয়। বর্তমানে উপজেলার সর্বত্র রোপণ করে গাছে গাছে ফলন দেখে চাষিদের মুখে হাসি ফুটছে। এরই মধ্যে বিক্রিও শুরু করেছেন অনেকে।
কৃষিতে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের কৃষক কাজী আনিসুর রহমান জানান, তার খামারে শতাধিক ছোট জাতের নারিকেল চারা রোপণ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশনায় চারাগুলোর যতœ নেয়ায় গাছ বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে গাছে নারিকেলের ফলনও শুরু হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, তার বাগানে খাটো জাতের নারিকেলের ১৭০টির বেশি চারা রোপণ করেছেন। ফলনও শুরু হয়েছে তার বাগানে। বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদুমপুর গ্রামের সুলতান ফকির বলেন, খাটো জাতের ৭৫টি নারিকেল রোপণ করে বাগান করেছেন তিনি। তার বাগানের ২০ থেকে ২২টি গাছে ফলন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর আহম্মেদ জানান, ভিয়েতনামের ছোট জাতের নারিকেল চারা রোপণে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। দেশীয় লম্বা জাতের নারিকেল গাছে ফুল আসতে ৭ থেকে ৮ বছরের অধিক সময় লাগে। অথচ ছোট জাতের ভিয়েতনামের নারিকেল গাছ রোপণের তিন বছরের মধ্যেই গাছে ফুল আসতে শুরু হয়। এই জাতের নারিকেল গাছ সব ধরনের মাটিতেই রোপণ করা যায়। নারিকেল গাছগুলো খাটো হওয়ায় পরিচর্যা করাও বেশ সহজ।



আরো সংবাদ