১২ মে ২০২১
`

শিবগঞ্জে প্রকল্পের আড়াই কোটি টাকা ফেরত যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

-

শিবগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের স্বেচ্ছাচারিতায় দুস্থ পরিবারের স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ ফেরত যাচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। এতে কাজ হারিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় শত শত নিম্নবিত্ত ও দুস্থ পরিবার।
সূত্র জানায়, দুস্থ পরিবারের স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তালিকা প্রেরণে স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রকল্পের শর্ত বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে এ অর্থ ফেরত যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে শাহাবাজপুর ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্মসূচির প্রকল্প তালিকায় দরিদ্রদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠাননি। এ ছাড়া বাকি ১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অনেক দেরিতে তালিকা দেয়ায় কর্মসূচির কাজও দেরিতে শুরু হয়। ফলে কোনো ইউনিয়নে তিন দিন, কোনো ইউনিয়নে চার দিন, কোনো ইউনিয়নে ১২ দিন আবার কোনো ইউনিয়নে সর্ব্বোচ ১৪ দিন কাজ হয়েছে।
জানা যায়, কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩১ জানুয়ারি। শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৭’শ জন। নির্দিষ্ট সময়ে ইউপি চেয়ারম্যানরা তালিকা না পাঠানোর কারণে কর্মসূচির বরাদ্দের ৩ কোটি ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে আড়াই কোটি টাকা অর্থাৎ মোট টাকার ৮০ ভাগ টাকা ফেরত যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। এতে কর্মহীন ও অসহায় শ্রমিকেরা অসহায়ই থেকে গেল। মৌসুমে দুস্থ পরিবারের স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রায় তিন হাজর ৭০০ শ্রমিক। কর্মসূচির কাজ বাস্তবায়ন হলে প্রত্যেক শ্রমিক পেতেন ৮ হাজার টাকা।
সূত্র জানায়, এর আগে কর্মসূচির তালিকায় যেসব শ্রমিকদের নাম রয়েছে তাদের বাদ দিয়ে কাজ করানো হয়েছে তালিকার বাইরের শ্রমিক দিয়ে। ৪০দিনের কর্মসূচিতে প্রকল্প তালিকার শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়ে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। যা প্রকল্পের নিয়ম বহির্ভূত। তাই প্রকল্পের চলমান কাজে হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, একটি ঘটনার তদন্তের জন্য টাকা আটকা পড়ে আছে। এই টাকা শ্রমিকরা পাবেন।
একাধিক চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তারা জানান, অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার জটিলতার কারণে শ্রমিকদের তালিকা দিতে দেরি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম কর্মসূচির ৮০ ভাগ টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলার শাহাবাজপুর ও বিনোদপুর ইউনিয়ন থেকে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পে শ্রমিকদের নামে তালিকা না দেয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল-রাব্বী জানান, টাকা ফেরত যাওয়ার মূল কারণ হলো দু’টি। একটি হলো যেখানে কাজ করার কথা সেখানে তদন্ত করে শ্রমিক পাওয়া যায়নি। যাদের পাওয়া যায়নি তাদের নাম তালিকা থেকে কেটে দেয়া হয়েছে। অন্যটি হলো সঠিক সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা শ্রমিকদের তালিকা না দেয়ায় সঠিক সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাই মেয়াদ পর্যন্ত যে কয়দিন কাজ করা সম্ভব হয়েছে সে কয়দিনের পারিশ্রমিক শ্রমিকেরা পাবেন। বাকিটা সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে ফেরত যাবে।



আরো সংবাদ


চীনের মন্তব্যের জবাবে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (১০২৬৪)হামাসের কমান্ডার নিহত (৯৭৬৫)ইসরাইলি পুলিশের হাতে বন্দী মরিয়মের হাসি ভাইরাল (৭৩০৫)বিহারের পর এবার উত্তরপ্রদেশেও নদীতে ভাসছে লাশ (৬৭৮২)‘কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক খারাপ হবে’ (৫৮৬৩)যৌন অপরাধীর সাথে সম্পর্ক বিল গেটসের! এ কারণেই ভাঙল বিয়ে? (৪৮৬৯)উত্তরপ্রদেশে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের প্রধান হলেন আজিম উদ্দিন (৪৪৫৬)নন-এমপিও শিক্ষকরা পাবেন ৫ হাজার টাকা, কর্মচারীরা আড়াই হাজার (৪২৪৬)মিতু হত্যা : স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তার গ্রেফতার (৩৯৭৩)গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ৯ শিশুসহ ২০ ফিলিস্তিনি নিহত (৩৮১৪)