১৭ এপ্রিল ২০২১
`

রিকশার প্যাডেলে প্রতিবন্ধীর জীবিকা

রিকশার প্যাডেলে প্রতিবন্ধীর জীবিকা -

নাম রোজিনা বেগম। বয়স ৩২। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ছয় বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন স্বামী। প্রতিবন্ধী হয়েও জীবন সংগ্রামে লড়াকু তিনি। জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন রিকশা চালানোর পেশা।
জানা যায়, বরিশাল আগৈলঝারার বাগদা গ্রামে জন্ম রোজিনার। শিশু বয়সে টাইফয়েডে তার বাঁ পা বিকল হয়ে যায়। কিশোর বয়সেই বরিশালের মুলাদী উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের দরিদ্র সুমনের সাথে বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে স্বামীর সাথে ছুটে যান ঢাকায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর মাথার ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ে রোজিনার। একদিকে নিজে প্রতিবন্ধী অন্য দিকে ছোট ছোট দু’টি সন্তান। কিভাবে চলবে জীবন? কী করে সংসার চালাবেন? এমন শত প্রশ্ন দাঁড়ায় সামনে। কিন্তু জীবন চলে তার আপন গতিতে। আর তাই তিনি আজ রিকশাচালক। ভিক্ষা করাকে আজীবন ঘৃণা করেন তিনি। সমাজে তার মতো অনেকেই ভিক্ষা করলেও রোজিনা ব্যতিক্রম। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ঢাকা শহরে ভাড়ায় রিকশা চালিয়ে উপার্জন শুরু করেন। তিন বছর আগে চলে আসেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাড়িতে। এখানে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিয়ে এক পর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি পুরনো অটোরিকশা কেনেন।
সারাদিন উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলেমেয়েদের নিয়ে উপজেলার সুবিদখালী কলেজ রোড একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। ছেলে হৃদয় (১০) স্থানীয় একটি হাফেজি মাদরাসায় পড়ে। টানাটানির সংসারে মেয়ে রিতুকে (১৩) পড়াশুনা করাতে পারছেন না।
প্রতিবন্ধী রোজিনা বেগম বলেন, একটি পা পঙ্গু হয়েছে তাতে কি? দু’টি হাত ও একটি পা আল্লাহতায়ালা সবল রেখেছেন। এটা আমার সৌভাগ্য।
রোজিনা বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাইনি।
মির্জাগঞ্জ উপজলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, সমাজে অনেক সুস্থ মহিলাকে দেখছি কাজ না করে ভিক্ষা করে বেড়ায়। তাদের জন্য রোজিনা একটি দৃষ্টান্ত। নতুন সমাজসেবা অফিসার যোগদান করলে রোজিনার ভাতা পাওয়ার ব্যাপারে জোর সুপারিশ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌস বলেন, রোজিনার সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আরো সংবাদ