০৪ মার্চ ২০২১
`

কুয়াশায় দৌলতদিয়ায় ট্রাকের লম্বা সিরিয়াল প্রতিদিন ৮ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি

-

ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সবসময় মালভর্তি ট্রাকের লম্বা সিরিয়াল থাকছে। ঘন কুয়াশার কারণে এ রুটে প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত ট্রাক আটকা পড়ছে। এতে করে চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিদিন ফেরি কাউন্টারে ছয়-সাত লাখ টাকা সরকারি আয় কমে গেছে। এ দিকে পেছনের গাড়িকে আগে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে পুলিশের উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে জানা যায়, চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে প্রায় দিনই রাত ১০টার পর থেকে পরদিন সকাল ৯-১০টা পর্যন্ত চার দিক ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে। এ সময়ই দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে এ রুটে বিআইডব্লিউটিসি’র প্রতিদিন ছয়-সাত লাখ টাকা রাজস্ব আয় কমে গেছে। এ ছাড়া প্রতিদিন রাত গভীর হলেই কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ হওয়ার পরদিন সকালে চলাচল শুরু হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস, মিনিবাস, মাইক্রো, প্রাইভেট কার-সহ নানা ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন পার করা হয়। এ সময় শুধু কাঁচামালভর্তি ট্রাক ফেরি পার হওয়ার সুযোগ দিয়ে অপচনশীল মাল বোঝাই ট্রাকগুলো দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় সিরিয়ালে দাঁড় করে রাখা হয়। সারা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকার পর ওই ট্রাকগুলো যখন দৌলতদিয়া যাওয়ার অনুমতি পায় তখন সিরিয়ালের সামনের কিছু ট্রাক পার হওয়ার পর রাতে আবার ঘন কুয়াশা শুরু হলে আবারো সিরিয়ালে আটকা পড়তে হয়। এভাবে দুই-তিন দিন পর্যন্ত সেগুলোকে আটকে থাকতে দেখা যায়। এ সময় অনেক চালক দ্রুত পার হওয়ার জন্য ট্রাফিক পুলিশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রের দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশকে উৎকোচ দিয়ে ফেরির নাগাল পায়। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করে তাদেরকে দিনের পর দিন সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়। এ সুযোগে পুলিশ ট্রাক-প্রতি দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিয়ে পেছনের গাড়ি আগে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে গোয়ালন্দ মোড়ে সিরিয়ালে থাকা কয়েকজন চালক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ আমাদের পেছনের গাড়ি সিরিয়াল ভেঙে আগে বের করে দেয়।
সোমবার রাত সাড়ে ৩টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা ফেরি-সহ সব নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে করে সহস্রািধক ছোট-বড় যানবাহন উভয় পাড়ে আটকা পড়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়। এ সময় বাস, মিনিবাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ কয়েক শ’ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে। দূরপাল্লার যাত্রীরা যানবাহনের মধ্যেই আটকে থেকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহান। যানজটের সুযোগ নিয়ে অনেক রিকশা, অটোরিকশা ও মাহেন্দ্র চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। মহিলা ও শিশুদের প্রকৃতির ডাক সারতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় ফেরি বন্ধ থাকায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রী বোঝাই বাস, মিনিবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন দৌলতদিয়া ঘাট পৌঁছাতে না পেরে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছে। এ সময় কনকনে শীতেও কষ্ট ভোগ করেন তারা।
দৌলতদিয়া ঘাট বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে প্রতি রাত ১০টা, সাড়ে ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা, ১০টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে করে প্রতিদিন ছয়-সাত লাখ টাকা রাজস্ব আয় কম হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় মহাসড়কে কয়েক শ’ যানবাহন আটকা পড়েছে। খুব দ্রুত যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে বলে তিনি জানান।



আরো সংবাদ