০৫ মার্চ ২০২১
`

আমতলীতে কাজ শেষ না হতেই দেবে গেছে বাঁধ

-

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য সোনাখালী গ্রামের আবুল মেম্বারের বাজারসংলগ্ন স্থানে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করার আগেই বাঁধ দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় এ বাঁধ দেবে গেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য সোনাখালী গ্রামের আবুল মেম্বারের বাজারসংলগ্ন তাফালবাড়িয়া নদী। বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবল স্রোতে বাজারসংলগ্ন ১৩০ মিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েন ওই সব গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। নদীভাঙন রোধে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ইমারজেন্সি প্রকল্পের অধীনে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গত বছর নভেম্বর মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩০ মিটার বাঁধ নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই কাজ পায় পটুয়াখালীর আজাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার স্বপন মৃধা বাঁধ নির্মাণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। প্রাক্কলনে উল্লেখ আছে মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ওই বাঁধের জন্য কাগজে-কলমে দুই হাজার ৩০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত দেখানো হলেও বাস্তবে তা করা হয়নি এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। বারেক প্যাদা ও মনির হাওলাদার নামে দু’জন অভিযোগ করেন বাঁধ রক্ষায় বাঁশের পাইলিং দেয়া হলেও তা ছিল নড়বড়ে। আট দিনের মাথায় নড়বড়ে পাইলিং ভেঙে জিও ব্যাগ নদীতে দেবে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওই বাঁধ। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের কাজ করায় আসছে বর্ষার মৌসুমে পানির স্রোতে বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে যাবে। এ দিকে বাঁধের ভেতরের পাদদেশ সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ওই বঁাঁধ ধসে পড়বে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঠিকাদারের তত্ত্বাবধায়ক সেলিম মিয়া শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। বাঁধের পাইলিং ভেঙে জিও ব্যাগ নদীতে দেবে গেছে। স্থানীয় নান্নু প্যাদা বলেন, ঠিকাদার স্বপন মৃধা পাইলিং না করেই জিও ব্যাগ ফেলেছেন। ফলে জিও ব্যাগ দেয়ার আট দিনের মধ্যেই বাঁধ দেবে গেছে। তিনি আরো বলেন, ঠিকদার নিম্নমানের কাজ করায় বৃষ্টি এলেই ওই বাঁধ ভেঙে যাবে।
ঠিকাদার স্বপন মৃধার তত্ত্বাবধায়ক সেলিম মিয়া বলেন, ঠিকাদার আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সেভাবে কাজ করছি।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান সুজন বলেন, দেবে যাওয়া স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ ঠিক করে দেয়ার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।
এ দিকে বাঁধ দেবে যাওয়া ও নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার স্বপন মৃধা বলেন, প্রয়োজন ও নিয়মমত জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি।
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে আমার ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ পোহাত। দুর্ভোগ লাঘবে সরকার টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তিনি আরো বলেন, স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ পেয়ে দেবে যাওয়া বাঁধ সরেজমিন দেখেছি। ওই বাঁধ আসছে বর্ষা মৌসুমে টিকবে কি না সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলৗ কায়সার আলম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 



আরো সংবাদ