০৭ মার্চ ২০২১
`

জমিও পালাম না ঘরও পালাম না

-

স্বপ্ন ছিল একটি স্থায়ী ঠিকানার। স্বপ্ন পূরণ দূরের কথা যে জমিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাও বিক্রি হয়ে গেছে। কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছেন না ষাটোর্ধ্ব ভূমিহীন বিধবা নবিরণ খাতুন। তিনি মাগুরার মহম্মদপুরের তেলিপুকুর গ্রামের চুন্নু মিয়ার স্ত্রী। একটি ঠিকানার আশায় পাগলের মতো ছুটছেন সরকারি দফতরে।
নবিরণ জানান, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ঘর নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে কবুলিয়ত খাসজমি পান। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দখল পাননি নবিরণ। মেলেনি সরকারি সহায়তা। উল্টো তাকে গালিগালাজ, ধমকি শুনতে হচ্ছে।
এখন কাজে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তবুও ভিক্ষা করেন না। ২৫-২৬ বছর আশ্রয় নেয়া জমিও এখন বিক্রি হয়ে গেছে। যেকোনো সময় তার ওই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।
চিন্তায় দিশেহারা নবিরণ বলেন, ‘আমার ১০ টাকার একখান কার্ডও নাই, ভিজিএফ কার্ডও নাই। বিধবা ভাতা বানাবো তাও বলে পাঁচ-ছয় হাজার টাহা লাগবি। এন্নে আমার কাছে টাহা নাই বাজান। আমি এহন কি হরব। পরের জায়গায় থাকিরে বাজান, এট্টু জাগাজমি নাই। বিভাগ কমিশনার জমিডা দিছিল। আপনারা মনে হরেন বিটি ভিক্ষে হরে খায়। না বাজান ভিক্ষে হরে খাইনে। সারা জীবন কাম হরে খাইছি। আমার জমিডা আমারে এহন কেউ বুঝে দেয় না। অফিসি গিলি কয় তোমার বাপের জমি নাহি। আমারে বিশ্রি কতাবাত্তারা কয়। সরকার জাগরে ঘর নাই তাগরে জমি দিচ্ছে, ঘর দিচ্ছে। আমি জমিও পালাম না, ঘরও পালাম না।
মহম্মদপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান রাবেয়া বেগম বলেন, নবিরণ নেছা সরকারিভাবে জমি পেয়েছে। কিন্তু দখলে যেতে পারছে না। আমি আগের ইউএনও স্যারের কাছে তার দখল বুঝায়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম।
এ ব্যাপারে মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, অনেকে আছে তাদের সামর্থ্য নাই জমিতে যাওয়ার। ইউএনওর কাছে আবেদন দিলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
মহম্মদপুর ইউএনও রামানন্দ পাল বলেন, সে আবেদন দিলে তার কাগজপত্র দেখে জমির দখল দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আরো সংবাদ