০৫ ডিসেম্বর ২০২০

বুড়িমারীতে চালান জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা : তদন্ত কমিটি গঠন

-

বুড়িমারী স্থলবন্দরে চালান জালিয়াতির ঘটনা কি শেষ পর্যন্ত ধামাচাপা পড়ে যাবে? এমন আশঙ্কা বুড়িমারীর ব্যবসায়ীদের অনেকের। চালান জালিয়াতির ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং সেই টাকার পরিমাণ কত তার কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে এ ব্যপারে যাতে কোনো তথ্য প্রকাশ না হয় সে জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দরে এত দিন যারা স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করে আসছেন তাদের আশঙ্কা যে, জড়িত ব্যক্তিরা কি শেষ পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবেন; তাদের কি কোনো শাস্তি হবে না? তবে এ ব্যপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি বুড়িমারী স্থলবন্দরে চালান জালিয়াতির গুঞ্জন সৃষ্টি হলে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সোমেন কান্তি চাকমা বন্দর ব্যবসায়ীদের সবার কাগজপত্র জমা চেয়ে নোটিশ দেন। এতে বেশির ভাগ ব্যবসায়ী কাগজপত্র জমা দিলেও ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা জমা দিতে গড়িমসি করেন। চালান জালিয়াতির এ ঘটনা গত ১৯ অক্টোবর নয়া দিগন্তে প্রকাশ হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। ফলে তারা নড়েচড়ে বসেন। তবে ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং কত টাকার চালান জালিয়াতি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে তার কোনো কিছুই প্রকাশ করছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অনেকেই মনে করছেন কিছু কাস্টমস কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া চালান জালিয়াতির এ ঘটনা ঘটতে পারে না। কয়েক দিন আগে বন্দরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে চালান জালিয়াতির এই গুঞ্জনকে শ্রেফ গুজব বলে আখ্যা দিয়ে এ ঘটনা সবখানে ছড়ানোর জন্য বন্দর ব্যবসায়ীদের এক নেতাকে দায়ী করেন। তার দাবি, তার কাছে অবৈধ সুবিধা আদায় করতে না পেরে তার লোকজন তাদের (কাস্টমস) বিরুদ্ধে এসব গুজব ছড়াচ্ছে।
বন্দর ব্যবসায়ীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়টি যদি গুজবই হয়ে থাকে তাহলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এত গোপনীয়তা কেন? কেন তারা সবকিছু অন্ধকারে রাখছেন। আর কেনইবা গণমাধ্যম কর্মীদের এড়িয়ে চলছেন। সবকিছু খোলাসা করলে তো তাদের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠত না। বন্দর ব্যবসায়ীদের যে কয়েকজন এই চালান জালিয়াতির সাথে জড়িত তাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি প্রায় দেড় কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। তার এই জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে তিনি অসুস্থ হয়ে রংপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে যারা চালান জালিয়াতির সাথে জড়িত তাদের অনেকে গোপনে টাকা জমা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চালান জালিয়াতির এ ঘটনা তদন্তে রংপুর বিভাগীয় কাস্টমসের এডিশনাল (এডি) কমিশনার সর্দার আব্দুল মান্নানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এই কমিটি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেনি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার সোমেন কান্তি চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি; তবে বন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বশির উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার না করে বলেন, বিষয়টি এসি সাহেব দেখছেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। তবে আপনাদের তথ্য দেয়ার মতো এখনো কিছু নেই। এটা চলমান কাজ, চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বিষয়টি এসি সাহেব ইমপোর্টার ও সিঅ্যান্ডএফদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে করছেন। যেহেতু কিছু একটা গোলমাল হয়েছে, সেটিকে ওভারকাম করার জন্য বন্দরের সবকিছু যাতে স্বাভাবিক থাকে সে জন্য সবার সহযোগিতায় সবকিছু করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত না করলেও তাদের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

 


আরো সংবাদ