২৬ নভেম্বর ২০২০

ভুরুঙ্গামারীতে জমির মালিকানা হারানোর শঙ্কায় ৫ হাজার পরিবার

-

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভাণ্ডার থেকে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরগামী রাস্তার দু’পাশে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার জমির মালিকানা হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। তারা পূর্ব পূরুষের হাত ধরে শত শত বছর ধরে বৈধ মালিকানা নিয়ে এসব জমিতে বসবাস করে আসছেন। সূত্র জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রয়োজনে ভূমি রিকুউজিশন করে একটি রাস্তা নির্মাণ হয়। অল্পসময়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ায় রাস্তাটি ভূমি মালিকদের নামে থেকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় একটি মহল বগুড়া সেনানিবাস, নর্দান সার্কেল, ভূ-সম্পতি দফতর কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলমান রেকর্ড/ডিপি খতিয়ান তৈরিতে স্থানীয় ভূমি প্রশাসনকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে প্রকৃত ভূমি মালিকরা বিষয়টি জানার পর বগুড়া সেনানিবাস, নর্দান সার্কেল, সামরিক ভূ-সম্পতি দফতরের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
ভূমি মালিক কমিটির আহ্বায়ক তাইফুর রহমান মুকুল জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রয়োজনে বাগভাণ্ডার মৌজা থেকে সোনারহাট স্থলবন্দর বানুরকুঠি মৌজা পর্যন্ত পাঁচটি মৌজার উপর দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। অল্পসময়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ায় তৎকালীন সরকার রাস্তাটির জন্য জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন না হওয়ায় অধিগ্রহণ করেনি। ফলে যথা নিয়মে এসএ রেকর্ড-পূর্ব মালিকদের নামে রেকর্ড হয়। জমির মালিক সরকারি নিয়মে নামজারি করে খাজনা পরিশোধ করে ভোগ দখল করে আসছেন। পরবর্তী দীর্ঘ সময় সরকার কিংবা বগুড়া সেনানিবাস, নর্দান সার্কেল, ভূ-সম্পতি দফতর কোনো ধরনের আপত্তি করেনি।
জানা যায়, উপসচিব ভূ-সম্পত্তি প্রশাসক নর্দান সার্কেল বগুড়া সেনানিবাস রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি পত্রে উল্লিখিত মালিকানাধীন রেকর্ডভুক্ত বসতবাড়ি কৃষি জমিগুলো বাদ দিয়ে তাদের নামে রেকর্ড করে দেয়ার জন্য অপতৎপরতা হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার রংপুর, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার ভুরুঙ্গামারী বিপাকে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সেটেলমেন্ট অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ভোগ দখল, সিএস ও এসএ রেকর্ডধারী জমির মালিকরাই প্রকৃত মালিক। তাদের রেকর্ড কেটে বগুড়া সেনানিবাস, নর্দান সাকের্লে এ জমির রেকর্ড করে দেয়ার বৈধতা কারো নেই। ইতোমধ্যে জনস্বার্থে শুধু রাস্তাটি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হয়েছে।
এ অবস্থায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাঁচটি মৌজার প্রায় পাঁচ হাজার ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 


আরো সংবাদ