৩০ নভেম্বর ২০২০

জনবল সঙ্কটে বরগুনায় চিকিৎসাসেবা বেহাল

-

জনবল সঙ্কটে ভেঙে পড়েছে বরগুনার স্বাভাবিক চিকিৎসা। জেলা শহর থেকে চিকিৎসক সংকটের সেই ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। দেখা যায়, ১০০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালটিতে যোগ হয়েছে দেড় শ’ শয্যা। নতুন ভবনটির কাজ এখনো অসামাপ্ত। কিন্তু করোনার সঙ্কটময় মুহূর্তে নতুন ভবনটিকে নাম মাত্র উদ্বোধন করে করোনা রোগীদের সেবা দেয় হাসপাতালটি। কিন্তু নতুন দেড় শ’ শয্যাতো দূরের কথা পুরনো শতাধিক শয্যাতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অবকাঠামোগত জনবল সঙ্কট রয়েছে হাসপাতালটিতে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অনেকটা এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
করোনারকালীন উপকূলের একমাত্র ভরসা হাসপাতালটি বিরামহীনভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন হাসপাতালটির জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা: কামরুল আজাদ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত মোট মঞ্জুরিকৃত ২০৩টি পদের মধ্যে ১১০টি পদই শূন্য রয়েছে। কর্মরত রয়েছে মাত্র ৯৩ জন। এত কমসংখ্যক চিকিৎসক ও ব্যবস্থাপনায় জেলা শহরের মতো একটি হাসপাতাল কিভাবে পরিচালনা সম্ভব এমনও প্রশ্ন সেবাগ্রহীতাদেরও।
সূত্র জানায়, বরগুনা সদর হাসপাতালটিতে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের মধ্যে চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত পদ মোট ৪৩টি। তত্ত্বাবধায়কসহ রয়েছে মাত্র ৯ জন। বাকি ৩৪টি পদই শূন্য। যেখানে সিনিয়র কনসালট্যান্ট ১০টি পদের পুরোটাই শূন্য রয়েছে। অন্য দিকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১১ জন থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র চারজন। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আছেন একজন। আর ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার (আইএমও) তিনজনে রয়েছে মাত্র একজন। মেডিক্যাল অফিসারের (এমও) চারটি পদই শূন্য। সহকারী সার্জন আটজনে রয়েছে মাত্র একজন। ডেন্টাল সার্জন একটি পদের একটিই শূন্য। প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্ট দু’টিই শূন্য।
জানা যায়, মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জন মোট ১৫ জন সদর হাসপাতালটিতে সংযুক্তিতে (প্রেষণ) রয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সংযুক্তিতে কর্মরত চার উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) আউটডোরে রোগী দেখার একমাত্র ভরসাস্থল। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংযুক্তিতে থাকা চার স্যাকমো দ্বারাই চিকিৎসা দিয়ে দায় সারছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন হাসপাতালটিতে আউটডোরে পাঁচ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
একইভাবে হাসপাতালটিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যবস্থ্যাপনায় মঞ্জুরিকৃত ৮৯টি মোট পদ রয়েছে। যেখানে ৩৩টি পদই শূন্য রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা একটি। পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদটি শূন্য। নর্সিং সুপারভাইজার দু’জনে রয়েছে একজন। সিনিয়র স্টাফ নার্স ৭৪টি পদে রয়েছে মাত্র ৫২টি। ২২ পদই শূন্য। স্টাফ নার্স ১১টি পদের ৯টিই শূন্য।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল অবকাঠামগত সঙ্কট নিয়ে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা: হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, বরগুনা জেলা সদরসহ অন্য পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও একই সমস্যা লেগে আছে। চিকিৎসকদের ঢাকামুখী প্রবণতা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি সরকারের নীতিমালায় পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন তিনি।

 


আরো সংবাদ