২১ অক্টোবর ২০২০

কপোতাক্ষে ফের ভাঙন : বিলীনের পথে কপিলমুনির বিস্তীর্ণ এলাকা

-

ফের ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে কপোতাক্ষ নদের খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে এখানকার বহু ঘরবাড়ি, গাছগাছালি, ফসলের ক্ষেত, মসজিদ, কবরস্থান বিলীন হয়ে গেছে। সর্বশেষ মালথ গ্রামের আরজ আলী মোড়লের বাড়ি থেকে শুরু করে ভাঙনের মুখে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের সরিয়ে নেয়া অংশের পদ্মাকান্দার তীর ঘেঁষে সিলেমানপুর পালপাড়া অভিমুখী রাস্তা পর্যন্ত ভয়াবহ ভাঙনের মুখে রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে রীতিমতো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকার বাসিন্দারা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, কপোতাক্ষের অব্যাহত নাব্যতা সঙ্কটে গভীরতা কমে যাওয়া, ভারী বর্ষণ ও কোটালের প্রভাবে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের মালথের আরজ মোড়লের বাড়ি থেকে পদ্মাকান্দা সাবেক পিচের রাস্তার তীর ঘেঁষে সিলেমানপুর পালপাড়া অভিমুখী রাস্তা পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের প্রায় তিন-চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে উপজেলার কপিলমুনি-হরিঢালী ইউনিয়নের দরগামহল, মালত, রামনাথপুর, সিলেমানপুর, আগড়ঘাটা বাজার, হাবিবনগর, নোয়াকাটি, সোনাতনকাটি, মাহমুদকাটি এলাকার বসতবাড়ি, ধর্মীয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, গাছ-গাছালিসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বহু কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভয়াবহ ভাঙনের মুখে সরিয়ে নেয়া হয়েছে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কটিও।
ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার পাশে, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি আবার অনেকে চলে গেছেন ভিন্ন এলাকায়।
মালথ ও সিলেমানপুরের মোকাম মোড়ল, গনি, পাগল, জব্বার মোড়ল, সৈয়দ মোল্যা, আব্দুল জব্বার জানান, অনেক আগে থেকেই ভাঙন সৃষ্টি হলেও এতটা ভয়াবহতা ছিল না। অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু আহরণ ও সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কেয়ারের রাস্তা অনেক আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভয়াবহ ভাঙনে অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় দুলাল, গনেশরা জানান, তাদের ৩০-৪০টি পরিবারের বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এর আগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেয়ারের বাঁধটিও গিলে খেয়েছে আগ্রাসী কপোতাক্ষ। তবে এখনো যারা ভিটাবাড়ি আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন তারাও অনাকাক্সিক্ষত আশঙ্কায় পরিবার নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। তাদের দাবি, সাহায্য চাই না। ভাঙন প্রতিরোধপূর্বক বসবাসের নিশ্চয়তা চাই।
ভয়াবহ ভাঙনের খবরে শনিবার দুপুরে কপিলমুনির মালথ ও সিলেমানপুরের নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। এ সময় কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইউএনও ভাঙন প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস, অন্তত ১ হাজার বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও আশ্বাস দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এজাহার আলী গাজী জানান, স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বাঁশের পাইলিং করে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করেছিলেন তারা। তবে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে কোনো পাইলিং কাজে আসেনি।
ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি জরুরি ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম সিদ্দিকী জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় এক হাজার বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা সংসদ সদস্য আলহাজ আক্তারুজ্জামান বাবু, পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আরো সংবাদ