২০ অক্টোবর ২০২০

ধুনটে বন্ধ স্কুল চালু দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ

স্বীকৃতি নবায়নের অপচেষ্টা
-

বগুড়ার ধুনটে ১০ বছর ধরে বন্ধ স্কুল চালু দেখিয়ে শিক্ষা বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের কারসাজিতে এখনো সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে যোগসাজশে ছয়জন শিক্ষক ও কর্মচারীকে সম্প্রতি সরকারের করোনা প্রণোদনার টাকা দেয়া হয়েছে এবং অন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এই স্কুলের শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বন্ধ স্কুলের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি নবায়নের চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার নিমগাছী গ্রামে ১৯৯৮ সালে স্থানীয় দানশীলদের উদ্যোগে নিমগাছী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০১ সালে এটি অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও এমপিওভুক্ত না হতে পেরে ২০১০ সালে স্কুলটির পাঠদানসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় স্কুল পরিচালনায় দেলোয়ার হোসেন দুলুর নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি বলবৎ ছিল এবং ২০০০ সালে নিয়োগ বৈধকরণকৃত সাতজন শিক্ষক-কর্মচারী ছিলেন। এরপর ওই স্কুলঘর কিছু ব্যক্তি কিন্ডারগার্টেন স্কুল হিসেবে ব্যবহার করেন। তারা ২০১২ সালে (স্কুল বন্ধকালীন) পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে রেজ্যুলেশন বানিয়ে তৎকালীন সভাপতি দেলোয়ার হোসে দুলু ও প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্য মোশারফ হোসেন স্বপনকে না জানিয়ে মামুনুর রশিদকে সভাপতি করে গোপনে পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা অফিসে পরিচালনা কমিটি গঠনের আবেদন করতে হয়। এ ছাড়া সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ও দাতা সদস্যের সম্মতি নিয়ে কমিটি গঠন করতে হয়। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনে গোপনে কমিটি করে সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান সেই কমিটির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান দায়িত্বে থাককালেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন এবং আরো কয়েকজনকে শিক্ষক কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও নিমগাছী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু বলেন, আমাকে কখন কিভাবে বাদ দেয়া হলো এবং কেমন করে নতুন কমিটি করা হলো তার কিছুই জানি না। অনেক দিন ধরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। তার পরও উপবৃত্তির টাকা, অনুদান ও প্রণোদনার টাকা বরাদ্দ কিভাবে হয় সেটিই আমার প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে শিক্ষা বিভাগের রাজশাহী উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা অফিস বারবার তদন্ত করলেও তারা বিষয়টি সমাধান না করে কালক্ষেপণ করছে। ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেছেন, পরিচালনা কমিটি গঠনে দাতা সদস্য মোশারফ হোসেন স্বপনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, যা আংশিক বিধিসম্মত হয়নি এবং স্কুলের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকাবস্থায় অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি নবায়নের জন্য আবারো আবেদনের পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হজরত আলী সরেজমিন তদন্ত করেন। সে সময় প্রধান শিক্ষক হাজির হলেও তার কোনো কথা শোনা হয়নি।
ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, সরকারি বিধিমোতাবেক সব কিছু হবে। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু হবে না। স্কুল বন্ধকালে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি নবায়নের চেষ্টা, ছাত্রছাত্রী না থাকলেও উপবৃত্তি ও সরকারি অনুদান উত্তোলনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জবাব এড়িয়ে বলেন, সব কিছু নিয়মের মধ্যে হবে।
বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ) হজরত আলী বলেন, আমি ফাইল না দেখে সব কিছু বলতে পারব না। অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির নবায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সরেজমিন তদন্তে যা পেয়েছি তাই রিপোর্ট দেবো।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর রাজশাহীর উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।


আরো সংবাদ

সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করছে ইসি : মির্জা ফখরুল কৃষি মন্ত্রণালয়কে করোনার সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ রিজভীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে মেডিক্যাল বোর্ড বিজয়ের পথে আজারবাইজান : প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ ভোক্তা ঋণ বাড়াতে সঞ্চিতি কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফজলু গাজীর কাছে নৌকার ভরাডুবি দায়মুক্তি অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের সম্ভাবনা কম : পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের গভীরে ফাটল ধরানোর ষড়যন্ত্র চলছে : এরদোগান ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি সন্ত্রাসীরা মুসলিম বিশ্বের ভেতর থেকে হুমকি দেয় : এরদোগান শ্রীমঙ্গলে উপ-নির্বাচনে একটিতে বিএনপি ও আরেকটিতে আ’লীগের প্রার্থী বিজয়ী

সকল