২২ জানুয়ারি ২০২১
`

করোনা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে খুলনার চিংড়ি রফতানি

-

করোনার প্রভাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে খুলনা অঞ্চল থেকে চিংড়ি রফতানির ওপর। তবে জুন মাস থেকে মন্দা কাটিয়ে রফতানি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। আগামী দিনগুলোতেও এ বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব এই রফতানি বাণিজ্যের ওপর পড়তে পারে বলে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খুলনার মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্র অনুযায়ী করোনায় বিদেশী ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত থাকার পর ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে খুলনা অঞ্চল থেকে হিমায়িত মাছ রফতানি শুরু হয়েছে। এ মাসে মাছ রফতানি হয় মোট ২ হাজার ৪৭৯ মেট্রিক টন। এ থেকে আয় হয় ২ কোটি ৪১ লাখ ১৪ হাজার মার্কিন ডলার, যা টাকার অঙ্কে ১৯৭ কোটি ৭৪ লাখ। এর মধ্যে চিংড়ির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৫২ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন এবং এর মূল্য ছিল ২ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০ ডলার। খুলনা অঞ্চল থেকে রফতানিকৃত হিমায়িত মাছের মধ্যে সবসময় চিংড়ির পরিমাণ ৯০ শতাংশের বেশি থাকে। বাকিটা থাকে সাদা মাছ, কাঁকড়া ইত্যাদি। ২০২০ সালের জুলাইয়ে হিমায়িত মাছ রফতানি হয় ২ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায় ২০১ কোটি টাকার।
তবে করোনার প্রভাবে বার্ষিক রফতানিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৯-২০ সালে হিমায়িত মৎস্য রফতানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মূল্যের ২৯ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ সালে রফতানি হয় ২৯ হাজার ৭ মেট্রিক টন। আয় হয় ২ হাজার ২৯০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ সালে রফতানির পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ২০১ মেট্রিক টন। আয় হয় ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এ থেকে অনুমিত হয় যে, গত বছর এ খাতে রফতানির আরো যে প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল করোনার কারণে তা হতে পারেনি।
এ ব্যাপারে মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ খুলনার উপপরিচালক মজিনুর রহমান বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ইউরোপ-আমেরিকার বায়ারদের সাথে আমাদের রফতানিকারকদের চুক্তি বাতিল অথবা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চিংড়ি রফতানি খুব কম হয়। পরে করোনার প্রভাব কমে গেলে জুন থেকে রফতানি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। প্রায় চার মাস বন্ধ থাকায় আমরা আড়াই থেকে ৩ হাজার টন চিংড়ি রফতানি করতে পারিনি। তবে আমরা এ বছর চিংড়ি রফতানি বাড়বে বলে আশাবাদী।
অপর দিকে এবার বাগদা চিংড়ির উৎপাদন কম হবে বলে চাষিদের ধারণা। পাইকগাছার প্রাকৃতিক পদ্ধতির বাগদা চিংড়ি চাষি মনিরুল ইসলাম কাগজী জানান, এবার সিজনের শুরুতে করোনার কারণে পোনার সাপ্লাই ঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গেছে সেগুলোর মানও ভালো ছিল না। ফলে পোনা মরার হারও বেশি। এতে উৎপাদন কম হবে।
কয়রার আধা নিবিড় পদ্ধতির বাগদা চাষি এহতেশামুল হক শাওন জানান, আমরা পোনা ছাড়ার পরই করোনার কারণে বিদেশ থেকে ওষুধ আসা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আমাদের চিংড়ি মরে সাফ হয়ে যায়। সিজনের একেবারে শুরুতে যারা পোনা ছেড়েছিলেন তাদের সবারই এক অবস্থা। অবশ্য ৮০ ভাগ আধা নিবিড় চাষিই এ সময় পোনা ছাড়তে পারেননি।
এ দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ টি এম তওফিক মাহমুদ বলেন, উৎপাদনে তেমন হেরফের হবে বলে মনে হয় না। কারণ ফার্স্ট সাইকেলে যারা পোনা ছেড়েছিলেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেকেন্ড সাইকেলে অসুবিধা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল বাকী বলেন, করোনার কারণে আমাদের পিক সিজন মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আমরা কোনো রফতানি করতে পারিনি। ফলে প্রচুর লোকসান দিতে হয়েছে। জুন মাস থেকে রফতানি শুরু হলেও বিশ্ববাজারে দাম কম। তবু আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ পেয়েছি। যদিও এখন আমাদের লাভ হচ্ছে না তারপরও কিছু লস করে ব্যবসায় টিকে থাকতে হচ্ছে। সামনে গলদার সিজন। সে সময় আমরা লাভ করতে পারব বলে আশা করছি। এখন আমরা চাষিদেরও ভালো দাম দিতে পারছি না। অভ্যন্তরীণ বাজারেও তারা ভালো দাম পান না। ফলে তারাও বিপদগ্রস্ত।

 



আরো সংবাদ