২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

পাটগ্রামে বিদ্যুৎ সঙ্কটে গড়ে উঠছে না শিল্পাঞ্চল

-

বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও একমাত্র বিদ্যুৎ সঙ্কটে কৃষি ভিত্তিক কোনো শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধায়। এতে উদ্যোক্তা মনোভাবের অনেকেরই বিনিয়োগের আগ্রহ দেখালেও সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের দাবি এখানে জাতীয় গ্রিড স্থাপন করে বিদ্যুৎ সঙ্কট দূর করা হোক। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং এলাকা উন্নত হবে। এ দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এখানে অবস্থিত হলেও এই এলাকার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হচ্ছে না। জানা যায়, ১৯৭৯ সালে এখানে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু হয়। লালমনিরহাট থেকে ৩৩ কেভির ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ চাহিদা দিন দিন বাড়লেও সরবরাহ লাইনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যার ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়লেও পাটগ্রাম হাতীবান্ধা অঞ্চলের মানুষ বছরের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকে। গত তিন দশক ধরে এ অঞ্চলের অধিবাসীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ভোগ করে চলেছে। অথচ ১৩২ কেভির একটি জাতীয় উপগ্রিড পাটগ্রাম হাতীবান্ধা উপজেলার মাঝামাঝি বড়খাতার রমণীগঞ্জে নির্মাণ করা হলে এ সমস্যার সমাধান হতো বলে স্থানীয়রা ও বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা দেশের প্রত্যন্ত উপজেলা হলেও অর্থনৈতিকভাবে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল। এ অঞ্চলে প্রচুর ভুট্টা এবং আমন ধান উৎপাদিত হয়। তারপরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে কৃষিভিত্তিক কলকারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তারা সাহস করছে না। এ দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এখানে অবস্থিত। যেখান থেকে প্রতি বছরে সরকার প্রায় শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। এ ছাড়া দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত তিন বিঘা করিডোর এবং তিস্তা ব্যারাজ। এসব স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন শিল্প। কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও এখানে পর্যটকদের ঢল নামে। এসব পর্যটকের জন্য না আছে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না আছে কোনো হোটেল-মোটেল। এখানে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সচিব এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছেও ইতঃপূর্বে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে এখানে গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণ করা জরুরি।


আরো সংবাদ