২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

দোহারে ছাদকৃষিতে সফল এক দম্পতি

-

এখন ‘ছাদকৃষি’ একটি অতি পরিচিত শব্দ। অনেকেই ছাদকৃষিকে লাভজনক প্রকল্পে হিসেবে নিয়েছেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কৃষি কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে ছাদকৃষি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এক সময়ে কেবল ছাদের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ লাগানো হতো। দিনে দিনে তা ছাদকৃষিতে রূপ নিয়েছে। ফুল-ফলের পাশাপাশি এখন ছাদে বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ হচ্ছে। উৎপাদিত হচ্ছে শাকসবজিও। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করছেন অনেকে। দেশের অর্থনীতিতেও কমবেশি ভূমিকা রাখছে এই ছাদকৃষি। রাজধানী ঢাকায় ছাদকৃষি শুরু হলেও এখন রাজধানীর সীমানা ছাড়িয়ে গ্রামের মানুষও ছাদে গাছ লাগানের প্রতি ঝুঁকছেন। ছাদকৃষিতে অনেকেই সফলতার মুখ দেখছেন।
ঢাকার দোহার উপজেলার ইকরাশী এলাকার এম এ ওয়াদুদ ও তার স্ত্রী শিলা আক্তার ছাদকৃষি করে ইতোমধ্যে সফলতার মুখ দেখেছেন। তাদের বাড়ির ছাদে চাষ হচ্ছে সবজি ও নানা ধরনের ফুল ফল। এখন তাদের দেখাদেখি অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ।
জানা যায়, ২০১৮ সালে ইকরাশী এলাকার ওয়াদুদ মিয়া তার মেয়ের জন্মদিনে মেয়েকে একটি আম গাছ উপহার দেন। গাছটি ছাদে রোপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় ছাদকৃষির। এম এ ওয়াদুদ পেশায় রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হওয়ার গাছের পরিচর্র্যা শুরু থেকেই তার স্ত্রীর দায়িত্বে ছিল। একটি আম গাছ রোপণের ছয় মাসের মধ্যেই আরো কয়েক প্রজাতির গাছ লাগান তারা। গাছগুলো দিনে দিনে শোভা বর্ধনের পাশাপাশি ফুল ফলে ভরে ওঠায় আগ্রহ বাড়তে থাকে তাদের।
দীর্ঘ সময় বাড়ির ছাদ অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও এখন এই দম্পতির ছাদে চাষ হচ্ছে মরিচ, বেগুন, বরবটি, ঝিঙা, ধুন্দল, পেঁপে, শিম, লাউ, কলা, আখ, কমলা, মাল্টা, লেবু, জামরুল, কদবেল, বড়ই, আপেল, বিলম্ব, আম, পেয়ারা, তেঁতুল, জলপাই, আলু বুখারা, সবেদা, ড্রাগন, জামরুল, লিচু, ঘৃত কুমারী, নাশপতি, মালভেরি ইত্যাদি। নিয়মিত পরিচর্যা করায় অল্পসময়ের মধ্যেই গাছগুলো নিয়মিত ফল দিতে শুরু করে। তাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় সবজি থেকেই পান।
ছাদকৃষির গাছগুলো সাধারণত টবের মধ্যে লাগানো ও বড় হয়ে থাকে। মাটি, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সংগ্রহ করেন। যে কারণে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। প্রতিদিন ভোরবেলা গাছগুলোর পরিচর্যা করেন শিলা আক্তার। টবের গাছগুলো সতেজ রাখতে পানি ও রোদ দরকার হয়। পোকার আক্রমণ হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী জৈব পদ্ধতিতে তা দমন করেন। তবে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে নিতে পারলে ফসল বেশি পাওয়া যায় বলে জানান এই দম্পতি।
এ বিষয়ে এম এ ওয়াদুদ বলেন, নিজে পরিশ্রম করে যেকোনো ফসল উৎপন্ন করা গর্বের। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আমরাও আমাদের পরিবেশকে সুন্দর রাখতে বাড়ির ছাদে কৃষিকাজ করার জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছি। আগামীতে ছাদকৃষিতে আরো সাফল্য কিভাবে পাওয়া যায় সেজন্য ব্যবস্থা নিয়ে ব্যপ্তি বাড়ানোর ইচ্ছে আছে।
শিলা আক্তার জানান, সাংসারিক কাজকর্ম করার পর যে সময় পাই তা গাছের পরিচর্যা করার জন্য যথেষ্ট। অবসর সময়টুকু খুব ভালোভাবেই কাটে এবং মানসিক প্রশান্তি বাড়ে।
দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুন ইয়াকুব জানান, ছাদে যে কেউ ইচ্ছা করলেই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারেন। এ জন্য উপজেলা কৃষি অফিস সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছে এবং আগামীতেও করবে।


আরো সংবাদ