২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কাশিয়ানীতে ভেসে গেছে ৩ কোটি টাকার মাছ

-

বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ছোট-বড় প্রায় এক হাজার মৎস্য চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ মাছ চাষিরা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, সমিতি ও স্থানীয় সুদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধারদেনা করে টাকা এনে মাছ চাষ করেছেন। বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকে আবারো বড় ধরনের ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন উপজেলার সিঙ্গা, হাতিয়াড়া, পারুলিয়া, মাহমুদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘের-পুকুরের পাড় পানিতে তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। কোনো কোনো পুকুরের পাড়ের উপর তিন থেকে পাঁচ ফুট পানি হয়েছে। অনেকে পুকুরের চার পাশে জাল ও বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তলিয়ে যাওয়া পুকুরগুলো একেবারে মাছশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে।
হাতিয়াড়া গ্রামের উপজেলার সবচেয়ে বড় মাছ চাষি মোহাম্মদ ছাওবান বলেন, ‘আমার দু’টি পুকুরে (ঘেরে) রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছিলাম। বন্যায় পুকুর তলিয়ে সম্পূর্ণ মাছ ভেসে গেছে। জাল দিয়ে আটকাতেও সুযোগ পাইনি। এতে আমার প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের তালিকা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এবং চাষিদের সঙ্কট নিরসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ দিকে, উপজেলার পারুলিয়া, পুইশুর, হাতিয়াড়া, মাহমুদপুর ও সিঙ্গা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়া মানুষ অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, ব্রিজ-কালভার্ট, পোলট্রি ফার্ম। নষ্ট হয়ে গেছে মরিচসহ শাকসবজির ক্ষেত।
এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ তহবিল থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ।


আরো সংবাদ