০৭ আগস্ট ২০২০

নবীনগরে প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাৎ!

-
24tkt

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামে ইউপি সদস্যর যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতাভোগীরা ভাতার টাকা উত্তোলন করে অফিস থেকে বের হওয়ার পর ওই ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য ছালেহা বেগমের স্বামী ও শ্রীঘর গ্রামের ময়না বেগম তাদের কাছ থেকে আট হাজার করে টাকা রেখে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কার্ড করে দেয়ার নামে নেয়া হয়েছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে ১৫২ জন প্রতিবন্ধীকে সরকার প্রদত্ত প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর আওতায় আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার তালিকা অনুযায়ী ওইসব প্রতিবন্ধীদেরকে ৯ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়।
জানা যায়, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২, ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ছালেহা বেগমের স্বামী নাজির মিয়া ও শ্রীঘর গ্রামের ময়না বেগম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এমন অনিয়ম করে যাচ্ছেন, এলাকার নিরীহ মানুষকে কার্ড করে দেয়ার নামে প্রতিজন থেকে নিচ্ছেন দুই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে রাতেই অনেকের আংশিক টাকা ফেরত দিয়ে গেছেন নাজির মিয়া ও ময়না বেগম।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজির মিয়া বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। এ সময় ভুক্তভোগীরা তার সামনে এসে টাকা নেয়ার কথা জানালে নাজির মিয়া ফোনে কথা বলার অযুহাতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।
ময়না বেগম বলেন, আমি এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন প্রতিবন্ধীর কার্ড করে দিয়েছি। ভাতার টাকা হাতে পেয়ে কয়েকজন খুশি হয়ে আমাকে ছয় হাজার টাকা করে দিয়েছিল, কিন্তু এই টাকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে আমি তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দেই।
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: ধন মিয়া বলেন, ১০ থেকে ১২ জন আমার কাছে অভিযোগ করেছেন, নাজির মিয়া তাদের কাছ থেকে ৮ হাজার করে টাকা রেখে দিয়েছে। এই ঘটনায় আমার ইউনিয়নের বদনাম হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুল বলেন, আমার জানামতে সবার টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার পারভেজ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমাজসেবা অফিস থেকে সেবা নিতে কোনো টাকা পয়সা লাগে না।

 


আরো সংবাদ