১৬ আগস্ট ২০২০

সোনারগাঁওয়ে পানিবন্দী তিন শ’ পরিবার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

সামান্য বৃষ্টিতে বৈদ্যেরবাজার সাতভাইয়াপাড়া এলাকার বাড়ির উঠানে ও রাস্তায় এভাবে পানিতে তলিয়ে থাকে : নয়া দিগন্ত -
24tkt

সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দু’টি গ্রামের রাস্তা ও বাড়ির আঙিনা। পৌরসভায় সাহাপুর ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া গ্রামে এসব চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই দুই গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে থাকে। এ জলাবদ্ধতার ফলে তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁঁকিতে পড়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুঃসহ পরিস্থিতির নিরসন চায়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া ও সোনারগাঁও পৌরসভার সাহাপুর এলাকায় এই বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে পানি সরতে পারে না। তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা। বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি জমে ময়লা ও আবর্জনায় পরিণত হয়েছে এলাকার প্রতিটি ঘরবাড়ির চারপাশ। সবাই পানি মারিয়ে হেঁটে প্রয়োজনীয় কাজে ও গন্তব্যস্থলে যাচ্ছেন। দীর্ঘ দিন জলাবদ্ধতার কারণে পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এক দিকে করোনার মতো মহামারী অন্য দিকে পচাপানির ভয়াবহতায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁঁকিতে পড়েছে ওই দুই এলাকার তিন শতাধিক পরিবার। এলাকাবাসী তাদের কষ্টের অবসান চায়।
সাতভাইয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এই এলাকায় কখনো এমন পচাপানির কবলে পড়েনি মানুষ। একটি সরকারি হালট ছিল যেখান দিয়ে বৃষ্টির পানি সরে যেত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু জায়গা-জমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেয় এলাকার বাসিন্দা মৃত সমর আলীর ছেলে রুহুল আমিন, নুরুল ইসলামের ছেলে মনির হোসেন, জালাল উদ্দিনসহ একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট এলাকার বিভিন্ন জায়গা বাউন্ডারি করে দখল করার কারণে বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। যার ফলে জনগণ এ ভোগান্তিতে পড়েছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই সাধারণ মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা হামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।
এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, বৃষ্টি হলে এলাকা থেকে পানি নামতে পারে না, পানি নিষ্কাশনের নেই কোনো ব্যবস্থা। দখলদাররা জায়গা দখল করে বাউন্ডারি করার কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্ট হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
এ দিকে পৌরসভার সাহাপুর এলাকার লোকজনও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার শিকার। তাদের অভিযোগ এ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের একটি রাস্তা থাকলেও তা বন্ধ হয়ে আছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে আছে। বাড়ির লোকজন যেকোনো প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে তাদেরকে ময়লা পানি মাড়াতে হয়। করোনা পরিস্থিতিতে ঘরবন্দী লোকজন এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চায়।
সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, মহামারী করোনায় শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে থাকতে হয় শুষ্ক জায়গা। আমাদের এলাকায় শুষ্ক জায়গা কোথায়? সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা ও প্রতিটি বাড়ির আঙিনা পানিতে তলিয়ে যায়। এ এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ মেরামতে এগিয়ে আসতে হবে জনপ্রতিনিধিদের।।
বৈদ্যেরবাজারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা: আবদুর রউফ বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই মোটর বসিয়ে পাইপ দিয়ে এলাকার পানি নিষ্কাশন শুরু করা হবে। স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশন ড্রেন করা হবে কিনা সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারেও পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সোনারগাঁও পৌরসভায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মধু জানান, সাহাপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ মেরামতে মেয়রকে অবহিত করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এর মেরামত করা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
সোনারগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে এলাকাবাসী আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ