০৪ আগস্ট ২০২০

মিরসরাইয়ে জলাবদ্ধতায় দেড় হাজার একর জমির আমন চাষ অনিশ্চিত

মিসরাইয়ে অনাবাদি থাকা জলাবদ্ধতার মধ্যে ঘাসে ভরে উঠেছে পশ্চিম পোলমোগরা বিল : নয়া দিগন্ত -
24tkt

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জলাবদ্ধতার কারণে দেড় হাজার একর জমিতে আমন চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার ১২ নম্বর খইয়াছড়া ইউনিয়নের দু’টি ছড়া মুখে বাঁধ ও স্থাপনা তৈরি করার কারণে এমন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চাষাবাদ অনিশ্চয়তার কারণে আমন বীজতলা তৈরির সময় চললেও খইয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা, দুয়ারু, মায়ানী, মসজিদিয়া এলাকায় কৃষকরা বীজতলা তৈরি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। ছড়ার মুখ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নন্বর ওয়ার্ডের সদস্য আহম্মদ আলী চৌধুরী মোসলিম গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
ইউপি সদস্য আহম্মেদ আলী চৌধুরী জানান, পশ্চিম পোলমোগরা এলাকার পশ্চিম বিল নামে পরিচিত বিলে প্রায় এক হাজার একর তিন ফসলি কৃষি জমি রয়েছে। বর্ষায় ওই বিলের পানিগুলো বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের পাশের মাতাইয়া ছড়া হয়ে সাহেরখালী খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতো। কিন্তু পশ্চিম পোলমোরগা বিলসংলগ্ন মাতাইয়া ছড়ার মুখে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রেখে আনোয়ার হোসেন মাস্টার বাড়ি তৈরি ও পুকুর খনন করায় এখন আর বিলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শত শত কৃষক চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। গত দু-তিন বছর ওই বিলের প্রায় এক হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো উপকার হয়নি। তাই এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বরাবরে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দিয়েছি।
স্থানীয় কৃষক সাবমিয়া ও সৈয়দ আহম্মদ জানান, চলতি মৌসুমে বিলে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন হওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় কৃষকরা আমন বীজতলা তৈরি করছে না। বিলের মধ্যে জলাবদ্ধতা, ঘাস আর জোঁকে ভরে উঠেছে। এবারো চাষাবাদ করা হবে বলে মনে হয় না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে আসন্ন আমন চাষাবাদের ব্যবস্থা করে দিতে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সাবেক মেম্বার সত্তরোর্ধ্ব জসীম উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, নুরনবীসহ একাধিক কৃষক জানান, যুগ যুগ ধরে তারা দেখে আসছেন পশ্চিম পোলমোগরা বিলের পানি স্থানীয় কাশেমের বাড়ির সামনে দিয়ে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের পাশে মাতাইয়া ছড়া দিয়ে সাহেরখালী খালে নিষ্কাশন হতে। এখন ওই সব জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে নতুন বাড়ি তৈরি করে কৃষকদের বিপাকে ফেলে দিয়েছে। রাজনীতি নেতা, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এ দিকে একই ইউনিয়নের মসজিদিয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় বারমাসি ছড়া মুখ ভরাট করে ভিটা তৈরি করায় প্রায় পাঁচ শ’ একর জমির আমন চাষাবাদ নিয়ে কৃষকের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রবিউল হোসেন, নুরনবী, নেপাল, গুরামিয়া জানান, চৌধুরীপাড়া এলাকায় বারমাসি ছড়ার মুখে কয়েক বছর আগে ভিটা তৈরি করায় জলাবদ্ধতায় আমন রোপা নষ্ট হয়ে যায়। এর পরও কৃষক চাষাবাদ চালিয়ে আসছে। কিন্তু এ বছর ওই ভিটা আরো উঁচু করার বর্ষার পানি নিষ্কাশন হওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চিন্তা দেখা দিয়েছে। ছড়া মুখে থাকা বাঁধ অপসারণ করা না হলে আমন রোপা পচে নষ্ট হয়ে যায় আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, পোলমোগরা বিলে চাষাবাদ বিঘœ হওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কোথাও ছড়ার মুখে বাঁধ দিয়ে চাষাবাদের বিঘœ করা যাবে না। এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ

হিজবুল্লাহর জালে আটকা পড়েছে ইসরাইল! (১৪২০০)হামলায় মার্কিন রণতরীর ডামি ধ্বংস না হওয়ার কারণ জানালো ইরান (১০৯৪৫)ভারতের যেকোনো অপকর্মের কঠিন জবাব দেয়ার হুমকি দিলো পাকিস্তান (৭৮৮৭)সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা : পুলিশের ২১ সদস্য প্রত্যাহার (৬৫২১)নেপালের সমর্থনে এবার লিপুলেখ পাসে সৈন্য বৃদ্ধি চীনের (৫৮৪৫)আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেন সন্দিহান ইরান-কাতার? (৫৪৭৪)চামড়ার দাম বিপর্যয়ের নেপথ্যে (৪৭৯৯)তল্লাশি চৌকিতে সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু দেশবাসীকে ক্ষুব্ধ করেছে: মির্জা ফখরুল (৪৭০২)‘অন্যায় সমর্থন না করায় আমাকে দুইবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল জয়নাল হাজারী’ (৪২৪৬)বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন (৪০৮৬)