১০ আগস্ট ২০২০

সিরাজদিখানে রাস্তা সংস্কারের নামে বিপুল টাকা আত্মসাৎ!

-
24tkt

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের জৈনসার ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামের কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির ও টাকা অত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম ঢালীর বিরুদ্ধে। চলতি বছরের শুরুতে ৫০০ ফুট দীর্ঘ এ রাস্তার কাজ শুরু করেন প্রকল্পের সভাপতি মোয়াজ্জেম ঢালী। তবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কাজ হলেও তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ড্রেজার ও ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাঠালতলী বাবুলের বাড়ি থেকে কাঠালতলী পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি পর্যন্ত কবরস্থানের রাস্তাটি মেরামতের জন্য হতদরিদ্রদের ৪০ দিনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকারিভাবে ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা দেয়া হয় কিন্তু ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার ও উক্ত প্রকল্পের সভাপতি মোয়াজ্জেম ঢালী গ্রামবাসীকে জানান উক্ত প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ বাতিল হয়ে গেছে, তাই এলাকা থেকে চাঁদা তুলে প্রকল্পের কাজ করতে হবে। প্রকল্প সভাপতির কথা বিশ্বাস করে ও রাস্তার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে কাঠালতলী গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা চাঁদা তুলে মোয়াজ্জেম ঢালী ও তার চাচা আবু তৌহিদের হাতে স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে প্রদান করা হয়। এরপর মোয়াজ্জেম ঢালী সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটা এবং উত্তোলনকৃত চাঁদার ৩ লাখ ১৪ হাজার টাকার দেড় লাখ টাকাও আত্মসাৎ করেন বলে জানা যায়।
উল্লিখিত রাস্তাটি মেরামতের জন্য ড্রেজারের মাধ্যমে পাশের তিনটি পুকুর খনন করে ৩৫ হাজার ঘনফুট মাটি রাস্তায় ব্যবহার করা হয় এবং মাত্র ৪০ ঘণ্টার চুক্তিতে ভেকু দিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সম্পন্ন করা হয়। প্রকল্প সভাপতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে রাস্তার পাশে অবস্থিত অনেকের বাড়ির ভিটিজমি জোরপূর্বক খাড়া করে কেটে নেয়া হয়েছে। যে কারণে বর্তমানে রাস্তা ও পাশের বাড়িগুলো ভাঙতে শুরু করেছে। এ ছাড়াও তিনি এলাকায় প্রচার করেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৪০ হাজার টাকা রাস্তাটি মেরামতের কাজে খরচ করেছেন। এ বিষয়ে তাকে কেউ কিছু বললে তাকে হুমকি-ধমকি ও খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
গ্রামের শেখ মোহাম্মদ নাজিম, শামিম শিকদার, শাহ্ আলম মৃধা, এমদাদুল হক পলাশসহ অনেকেই বলেন, আমাদের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন মেম্বার। আমরা সবাই মিলে রাস্তার জন্য টাকা দিয়েছি। বর্ষা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফনে যাতে কোনো সমস্যা দেখা না দেয় সে জন্য রাস্তা নির্মাণের টাকা ও অনেকের জমির মাটি দেয়া হয়েছে। অনেকের বাড়ির মাটি পরবর্তীতে ভারট কারে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেটে নেয়া হয়েছে। ইউপি মেম্বার আমাদের টাকায় রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম ঢালী বলেন, আমি প্রকল্পের বরাদ্দের টাকায় রাস্তার কাজ করিয়েছি। এলকাবাসীর কাছ থেকে আমি কোনো টাকা উঠাইনি। রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য রাস্তার পাশের খাল ভরাট করার জন্য শমসের আলম ভূইয়ার অনুমতিক্রমে এলাকবাসী তৌহিদ মিয়ার (তার চাচ) কাছে টাকা দিয়েছে। সে টাকা টাকা দিয়ে তারাই ড্রেজারের মাধ্যমে বালি দিয়ে খাল ভরাট করেছে। ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার কজে করানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ভেকু দিয়ে কোনো কাজ করাইনি। যা করিয়েছি তা লেবার দিয়েই করিয়েছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা বলেন, আমরা সেখানে প্রকল্প দিয়েছি। তার কাজ সঠিকভাবে শেষও হয়েছে। তবে অনিয়ম বা দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 


আরো সংবাদ