১৫ জুলাই ২০২০

পাখির কিচিরমিচির ভুলিয়ে দেয় করোনা আতঙ্ক

-

করোনার ভয়ানক থাবায় যান্ত্রিক দুনিয়া যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, প্রকৃতি তখন আপন ছন্দে নতুন করে জেগে উঠছে ছোট্ট একটি মফস্বল শহরে। পুরো বিশে^র মতো বাংলাদেশও করোনার কবল থেকে রেহাই পায়নি, রেহাই পায়নি এই জেলা শহরটিও। তবে পাখি তো আর করোনা বোঝে না, তাইতো নিজেদের ছন্দে কিচিরমিচির করে মাতিয়ে রাখছে প্রকৃতি। এক কথায় পাখির কিচিরমিচির মানুষকে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য ভুলিয়ে রাখছে করোনা আতঙ্কের কথা।
স্বাভাবিকভাবে পাখিরা বনবাদাড়ে নিজেদের বসবাস ও আড্ডাস্থল গড়ে থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা গেছো চড়–ই নামের ক্ষুদ্র পাখিরা। যার বৈজ্ঞানিক নাম ইউরেশিয়ান ট্রি স্পেরো। এ পাখিরা তাদের আড্ডাস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে ঠাকুরগাঁও শহরের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা। জায়গাটি চার রাস্তার মিলনস্থল। এখান দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক। এমন একটি জায়গায় পাখিরা সমবেত হয় যা রীতিমতো অবাক করার মতো। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে-না-হতেই পাখিগুলোর আগমন ঘটতে থাকে। ঝাঁকে ঝাঁকে এসে বসে রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক তার এবং গাছের ডালপালায়। সংখ্যায় যা হাজার হাজার। সন্ধ্যার অনেক পর পর্যন্ত চলে তাদের কলকাকলি কিচিরমিচির। এরপর তারা ফিরে যায় আশপাশের গাছপালা ঝোপঝাড়ে। সেখানেই রাত কাটিয়ে ভোরে বেরিয়ে যায় আহারের সন্ধানে।
গেছো চড়ুই বা ইউরেশিয়ান ট্রি স্পেরো পাখির মাথার দিকে না তাকালে আমরা আমাদের বাড়িঘরে বাস করা পাতি চড়–য়ের সাথেই এক করে ফেলতে পারি। চেহারা হুবহু পাতি চড়ুই অর্থাৎ আমাদের ঘরের আশপাশে যে চড়–ই বসবাস করে ওদের মতোই। লম্বায় চার থেকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি হয়ে থাকে। ওজন ৩০ থেকে ৯০ গ্রামের বেশি হয় না। তবে এদের গালে একটি কালো দাগ বা বিউটি স্পটের জন্য এদের আলাদা করা যায়। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা দল বেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে চলাচল করে। অপেক্ষাকৃত নিচু গাছে বসবাস করে। শস্যদানা, আগাছার বীজ, ছোট ছোট পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ এদের প্রধান খাবার।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার কনফেকশনারি দোকানদার আব্দুস সাত্তার জানান, প্রতিদিন বিকেল বেলায় হাজার হাজার পাখি এখানে জড়ো হয়। ওদের কলকাকলিতে মিষ্টি এক পরিবেশ তৈরি হয়। মাঝে মাঝে ওরা ঝগড়াও করে দেখে ভালোই লাগে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পাখিপ্রেমিক ও চিত্রগ্রাহক রেজাউল হাফিজ রাহি জানান, এসব গেছো চড়ুই এ অঞ্চলেই এদের বেশি দেখা যায়। তবে দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যেহেতু এই পাখিগুলো জনবসতির আশপাশে থাকতে ভালোবাসে তাই কেউ যেন এদের শিকার করতে না পারে সে জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টির দিকে নজর রাখার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।


আরো সংবাদ

এবার আল-আকসা উদ্ধারের ঘোষণা এরদোগানের(ভিডিও) (৬৮৫০)ডিজির অনুরোধে রিজেন্টের সাথে চুক্তির অনুষ্ঠানে গিয়ে ছিলাম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী (৪৭৩৩)তুরস্ক-মিশরের পাল্টাপাল্টি হুঙ্কারে ভয়াবহ সংঘাতের পথে লিবিয়া (৪৭৩৩)ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেব্রেনিৎসা স্টাইলে গণহত্যার আশঙ্কা! (৪৪৬৯)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্যা নেপালে (৪৪১২)বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়ালো (৪১৭২)রামকে নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া (৩৭৩৮)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্য নেপালে (৩৬৬০)মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ আর নেই (৩৬০২)ইরানের চাবাহার রেলপ্রকল্প : ভারত আউট, চীন ইন (৩৫৩৪)