১২ জুলাই ২০২০
বর্ষার আগেই বরিশাল অঞ্চলে নদীভাঙন শুরু

কীর্তনখোলা, সন্ধ্যা ও বিষখালীর ভাঙনে বিপর্যস্ত জনপদ

বর্ষার আগেই শুরু হয়েছে নদীর ভাঙন : নয়া দিগন্ত -

বর্ষা মৌসুমের আগেই বরিশালের কীতর্নখোলা, সন্ধ্যা ও বিষখালীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা, হাটবাজার, সড়ক, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা, ঘরবাড়ি ও বাজার। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদবাড়ি গ্রামের দাসেরহাট বাজারের অদূরে হঠাৎ করে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ১২টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মৃধা বলেন, আকস্মিকভাবে সন্ধ্যা নদীর তীরে বসবাসরত রতন বাড়ৈ, নিকুঞ্জ দেউরী, মনি বাড়ৈ, অনিল দেউরী, যশরত নাটুয়া, সুনীল মাল, হাবিব সিকদার, রাজে আলী সিকদার, নির্মল বাড়ৈ, অমৃত মধু, শ্যামল গাইন ও কৃষ্ণ বৈদ্যর বসতভিটা, গাছপালাসহ আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
কীর্তনখোলার চরকাউয়া নদভাঙন রোধে সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই গত কয়েকদিন ধরে নদীভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে এ এলাকার মানুষ। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানোর পর তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। তারা শিগগিরই ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিউদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
অন্য দিকে ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাতে নিশ্চিহ্ন বিষখালী নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের ঈদ কেটেছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। বিষখালীর ভয়াবহ ভাঙন ও তীর রক্ষা বাঁধ ধসে যাওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আমফানের আঘাতে ভেঙে যাওয়া বিষখালীর তীরবর্তী কাঁঠালিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার শুরু করেছেন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে পুনর্র্নির্মাণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলার আমুয়া, কাঁঠলিয়া সদর, শৌলজালিয়া ও আরোবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
সূত্রে আরো জানা গেছে, পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে অরক্ষিত হয়ে পড়বে গোটা কাঁঠালিয়া উপজেলা। হুমকিতে পড়বে উপজেলা কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার ও বিষখালীর ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভয়াবহ নদীভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সরকারি অফিস-আদালত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের জন্য আমুয়া ইউনিয়ন থেকে আরোবুনিয়া পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য তিনি জোর দাবি জানান।
সবশেষ আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁঠালিয়ার বিষখালীর তীরবর্তী নিশ্চিহ্ন বেড়িবাঁধ ও নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক জোহর আলী বলেন, কাঁঠালিয়াকে আর ভাঙতে দেয়া যাবে না, ভাঙন থেকে রক্ষা করা হবে। এ জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধের সংস্কার ও নদীর তীর রক্ষায় ২৬ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে।
সূত্র মতে, দুই যুগের অধিক সময় ধরে বিষখালী নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য হাটবাজার, রাস্তাঘাট, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়কেন্দ্রসহ বহু স্থাপনা। বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলা কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর।


আরো সংবাদ

সকল