১২ জুলাই ২০২০

ফুলতলায় বাঁধ ভেঙে লোনা পানি ঢুকে শত কোটি টাকার আখ নষ্ট

-

খুলনার ফুলতলা উপজেলার খানজাহানপুর এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে ভৈরব নদীসংলগ্ন প্রায় এক শ’ বিঘা জমি লোনা পানিতে প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার আখ নষ্ট হয়েছে। এতে শতাধিক কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভীন সুলতানা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশারসহ কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, গত ২০ মে রাতে ঘূর্ণিঝড় আমফানে ভৈরব নদীর জোয়ারের লোনা পানির তোড়ে খানজাহানপুর গ্রামের কালভার্ট সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে আখক্ষেত প্লাবিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুই-তিন দিন পর লোনা পানি নেমে যায়। তবে লবণাক্ততার প্রভাবে শতাধিক কৃষকের ক্ষেতের আখ ধীরে ধীরে বাদামি বর্ণ ধারণ করে শুকিয়ে মরে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চামেলী মল্লিক জানিয়েছেন।
খানজাহানপুর গ্রামের আখ চাষি ইসলাম শেখ বলেন, ‘ভৈরবপাড়ের নিজস্ব ৫০ শতাংশ জমিতে ব্যাংক ঋণ নিয়ে আখের আবাদ করেছি। এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ ফসল উঠতে আরো ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হবে। অন্যান্য বছরের গড় হিসাব অনুযায়ী দুই লক্ষাধিক টাকার আখ বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু লোনা পানি উঠে সম্পূর্র্ণ আখই মরে গেছে। এখন চিন্তা, এক দিকে সারা বছরের ভরণপোষণ, অন্য দিকে ঋণ পরিশোধের।’
পাশের পায়গ্রাম কসবা গ্রামের বর্গাচাষি শেখ কামাল বলেন, ‘একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ ও অন্যের দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আখ চাষে নামি। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ফসল বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করা হবে এমন ওয়াদা করে ফুলতলা বাজারের একটি দোকান থেকে সার ও কীটনাশক বাকিতে এনেছি; কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের সময় লোনা পানি উঠে ক্ষেতের সব আখ মরে যায়। এ অবস্থায় এনজিও ঋণ, বাকিতে আনা সার ও কীটনাশকের টাকা পরিশোধের চিন্তায় নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। চরের জমিতে বছরে একবার আখ চাষ করতে বিঘাপ্রতি প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করলে সাধারণত দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রি হয়।
এ দিকে ক্ষতিগ্রস্ত আখচাষিদের পক্ষ থেকে শেখ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য অপর আখ চাষি শামীম শেখ ও তার বাবা মোজাফ্ফর শেখের কাছে ১০ হাজার টাকা গচ্ছিত রাখা হয়। কিন্তু যথাসময় কাজ না করে সে টাকা আত্মসাৎ করার কারণে জোয়ারের লোনা পানিতে আখ চাষিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা ক্ষতিপূরণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা বলেন, ঘূর্ণিঝড়পরবর্তী কৃষকদের ফসলের ক্ষতির বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রীনা খাতুনসহ সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেছি। কালভার্ট সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানিতে আখক্ষেত প্লাবিত হওয়ার ফলেই ক্ষেতের আখ শুকিয়ে যায়। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ