০৪ এপ্রিল ২০২০

করোনা নিয়ে কোনো উদ্বেগই নেই তাহিরপুরের কয়লা ও চুনাপাথর শ্রমিকদের

তাহিরপুরের পাটলাই নদীতে কয়লা ও চুনাপাথর শ্রমিকদের ব্যস্ততা : নয়া দিগন্ত -

নভেল করোনাভাইরাসে যখন গোটা বিশ্ব আতঙ্কিত, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাগম, আড্ডা, দোকপাট বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তের কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন কাজের শ্রমিকদের মাঝে এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়নি। তাদের ভাবনার বিষয় কাজ বন্ধ হলে কিভাবে উপার্জন করবে তা নিয়ে। কারণ তারা দিনমুজুর আর করোনাভাইরাস কী তারা অনেকেই ভালোভাবে জানেন না। আর কয়লা ও চুনাপাথর ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন বন্ধ না করায় প্রতিদিনের মতোই খোলামেলাভাবে কয়লা পরিবহন করছেন হতদরিদ্র শত শত শ্রমিক।
গত বুধবার উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিমে পাটলাই নদীর চরে এখনও চলতেছে কয়লা ও চুনাপাথর শ্রমিক ও নৌকা দিয়ে পরিবহনের কাজ।
ফলে সংক্রমণের পাশাপাশি করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ারও বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল ও ডাক্তাররা। পরিবহন ও দিনমজুর শ্রমিকরা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সংস্পর্শে আসেন। তাই তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শ্রমজীবী ও নি¤œ আয়ের মানুষদের সুরক্ষা ও বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু ঐসব শ্রমিকের করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে জানান স্থানীয় সাংবাদিক সাবজল হোসেন।
জানা যায়, উপজেলা সীমান্ত বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী এলাকার গ্রামগুলোতে নিম্ন আয়ের অবহেলিত জনগোষ্ঠী সচেতনতার অভাবে করোনা ঝুঁকি নিয়েই করছেন বসবাস। সরকারি বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী এনজিও থেকে সচেতনতার জন্য অদ্যাবধি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যার ফলে করোনাভাইরাস কী? মাস্ক কেন ব্যবহার করতে হয়? হোম কোয়ারেন্টিন কী? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর জানেন না মেঘালয় পাদদেশের বসবাসরত নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেকেই। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষের কাজ কয়লা পরিবহন করা। এ ছাড়া অন্য কোনো কাজ নেই। তাই দলে দলে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে চুনাপাথর ও কয়লা পরিবহন কাজ করছেন শত শত শ্রমিক। যে কারণে করোনাভাইরাস নিয়ে তাদের মধ্যে নেই তেমন কোনো আলোচনা এমনটাই জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
শাফিকুল মিয়াসহ সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সময় কয়লা ও পাথর শ্রমিকদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত থাকে তাহলে তার সংস্পর্শে করোনা ছড়িয়ে পড়বে শত শত শ্রমিকের মধ্যে, তখনই করোনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে সারা দেশজুড়ে। যেহেতু করোনাভাইরাস একটি সংক্রমণ ভাইরাস তাই এই কাজ বন্ধ করা খুবই প্রয়োজন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজের ব্যানাজি জানান, সব ধরনের কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়লা ও চুনাপাথর শ্রমিক ও নৌকা দিয়ে পরিবহন একেবারেই বন্ধ না মানলে অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিয়মের বাইরে কাজ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 


আরো সংবাদ