০৪ এপ্রিল ২০২০

করোনা আতঙ্কে ভারত থেকে অবাধে আসছে বাংলাদেশীরা

-

করোনা আতঙ্কের মুখে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্তের চোরাপথ ধরে বিপুল বাংলাদেশী নাগরিক ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় বিএসএফ তাদেরকে পুশব্যাক করে দিচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা না গেলেও সীমান্তের গ্র্রামবাসী বলছেনÑ সাতক্ষীরার একদল চোরা ঘাটমালিক এসব মানুষকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে মাথাপ্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে ফিরে আসা এসব নাগরিক করোনাভাইরাস বহন করছে কি না তা অজানা থেকে যাচ্ছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে ভারত ফেরত ছয়জন বাংলাদেশী নাগরিককে সাতক্ষীরা তলুইগাছা সীমান্তের একটি ঝোপজঙ্গলের মধ্যে অবস্থান করতে দেখা গেছে। স্থানীয় এক চোরা ঘাটমালিক তাদেরকে বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করেছে। এ খবর জানতে পেরে সদর উপজেলার কুশখালি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল তার লোকজন নিয়ে ফেরত আসা ওই বাংলাদেশীদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার লক্ষ্যে দ্রুত সেখানে যান। তার আগেই ওই চোরা ঘাটমালিক তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছেÑ তাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে সাতক্ষীরা জেলার ১৩৮ কিলোমিটারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৩-১৪ জন চোরা ঘাটমালিককে কুশখালি সীমান্তের নটিজঙ্গল এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। তারা ভারত থেকে লোকজন আসাকে উৎসাহিত করছেন। এ জন্য এই সিন্ডিকেট মাথাপ্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে আদায় করেছে। গত মঙ্গলবার সকালে আরো বেশ কিছু নারী-পুরুষ যারা ভারতে ছিলেন তারাও একই পথে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী।
সাতক্ষীরার বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, তিনি খবর পেয়েছেন সাতক্ষীরা সীমান্তের কাছাকাছি রুদ্রপুর সীমান্ত দিয়ে বেশ কিছু বাংলাদেশী নাগরিক ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সাতক্ষীরার তলুইগাছা বা অন্য কোনো সীমান্ত দিয়ে এমন অবৈধ পারাপার হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। তলুইগাছা সীমান্তে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা তিনি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ঘটনা যাই ঘটুক চোরাপথে কোনো দেশের নাগরিককে সীমান্ত পার হতে দেয়া হবে না।

 


আরো সংবাদ