০৬ এপ্রিল ২০২০

ধ্বংসস্তূপই মিনুবালার শেষ আশ্রয়

-

একাত্তরে স্বামী সন্তানকে হারিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রাবাঁধে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করে আসছিলেন সত্তরোর্ধ্ব মিনুবালা। এবার সে আশ্রয়টুকুও হারিয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছেন তিনি। বাঁধ থেকে ঘর উচ্ছেদ করে দেয়ায় চৌকি এখন তার মাথার গোঁজার ছাদ। মিনুবালার মতো ষাটোর্ধ্ব ইসাহক ও হাসনা দম্পত্তিও শেষ আশ্রয় হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিন ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রাবাঁধের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধে আশ্রিত মানুষ নিরূপায় হয়ে অন্যত্র বাসস্থান সরিয়ে নিলেও বৃদ্ধা মিনুবালা উচ্ছেদ করা ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর চৌকি পেতে তার নিচে মাথার গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। এরপর কোথায় গিয়ে ওঠবেন, কী করবেন জানা নেই তার। বাড়ি বাড়ি ভিে করে দিনাতিপাত করা মিনুবালা শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাত্তরের যুদ্ধের সময় মিনুবালার স্বামী খগেন তার ৯ বছরের ছেলে সন্তানকে নিয়ে হারিয়ে যান। দেশ স্বাধীনের পর স্বামী-সন্তান ফিরে আসার পথ চেয়ে ব্রহ্মপুত্র বাঁধের রমনা মিয়াপাড়ায় ছোট একচালা ঘর তুলে সেখানে দিনাতিপাত করে আসছিলেন।
সম্প্রতি কুড়িগ্রামের কালুয়ার চর এলাকা থেকে চিলমারী পর্যন্ত ৫২.৭ কিলোমিটার বাঁধ এলাকায় আশ্রিত ভাঙনে সর্বস্বহারা পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে করে সেখানে বসবাস করা মিনুবালার মতো ৪০ হাজার নিঃস্ব মানুষের জীবনে নেমে আসে মহাবিপর্যয়।
বাঁধ থেকে উচ্ছেদ হয়ে বাঁশঝাড়ের পাশে পরিত্যক্ত একটা ভিটেয় আশ্রয় নেয়া ইসহাক আক্ষেপ করে বলেন, ছেলেমেয়ে নেই। দুই দিন না খেয়ে আছি, কেউ একমুঠো ভাতও দেয়নি। এ পরিত্যক্ত ভিটেয় দুই মাসের জন্য তাদের থাকতে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপর কোথায় গিয়ে উঠবেন তার জানা নেই। সমাজ উন্নয়নকর্মী মাঈদুল ইসলাম বলেন, বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো নদীভাঙনে সর্বস্বহারা। এখানকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ির চালা ও বেড়া খুলে বাঁধের পাশেই রেখে দিয়েছেন। যাওয়ার জায়গা নেই। জায়গা কিনে বাড়ি করার মতো টাকাও নেই। ফলে ঘরের চালা ভেঙে জড়ো করে রেখেছেন। বাধ্য হয়ে কনকনে শীতের রাতে ভাঙা চালার নিচে মাথা গুঁজে শুয়ে বসে থাকেন। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, প্রতি বছর পানি বাড়ায় উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সংস্কার করবে। বাঁধে আশ্রিত মানুষগুলোকে জনস্বার্থেই সরে যেতে হবে। পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য খাসজমি-আবাসনের ব্যবস্থা করাসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার আওতার ব্যবস্থা করা হবে।


আরো সংবাদ