০৮ জুলাই ২০২০

লামা পাহাড়ি এলাকার ৬০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত

-

আছে শিক্ষক, আছে শিক্ষার্থী, অপ্রতুল হলেও আছে অবকাঠামোগত সুবিধা, শুধু নেই শিক্ষকদের বেতন। এ নিয়ে চরম হতাশাগ্রস্ত শিক্ষকেরা স্কুল ছেড়ে চলে গেলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে চারটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের জন্য এই চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আশপাশের ৪-৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নেই।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লোহাগাড়ার পার্শ্ববর্তী পার্বত্য লামা উপজেলায় চারটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে বছরের পর বছর বিনা বেতনে শিক্ষাদান করে আসছেন ১৬ জন শিক্ষক। স্বেচ্ছাশ্রম দিতে গিয়ে শিক্ষক পরিবারগুলো এখন মানবেতর দিনযাপন করছে।
উপজেলার লামা পৌরসভার নুনাঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০০১ সালে, লামা সদরে মেরেঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০০০ সালে, সরই ইউনিয়নের ধুইল্যাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৯৮ সালে এবং কমিউনিটি সেন্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আশপাশে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এসব এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব বেসরকারি বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল। উপবৃত্তিসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার ফলে ঝরে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী। স্কুলগুলো বরাবরই ভালো ফলাফল করছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
কমিউনিটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রাবন্তী ত্রিপুরা বলে আমার আশপাশে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় বাধ্য হয়ে কয়েকটি পাহাড় ডিঙিয়ে এ বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। মেরেঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র মেন্নাই মুরং বলে আমরা কোনো উপবৃত্তি পাই না। তাই আমাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে।
কমিউনিটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুস সোবহান বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছি। আসলে এভাবে চলতে পারে না।
নুনাঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুকুল ইসলাম বলেন, রোদবৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত পাঠদান করি। কিন্তু কোনো বেতন-ভাতা নেই। ফলে সংসার চালাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের মানবেতর জীবনযাপন দেখার যেন কেউ নেই।
ধুইল্যাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়গুলো সরকারি না হওয়ায় আমরা শিক্ষকেরা যেমন মানবেতর জীবনযাপন করছি, তেমন ছাত্রছাত্রীরাও দিন দিন ঝরে পড়ছে। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা ফেলে শিক্ষার্থীরা যেমন ঝরে পড়বে না, তেমনি শিক্ষকেরাও মানবেতর দিনযাপন থেকে মুক্তি পাবে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ইদ্রিস কোম্পানি জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সঙ্কটে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোর সরকারীকরণের জন্য শিক্ষাবান্ধব সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এলাকার স্কুলগুলোর ব্যাপারে পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল।

 


আরো সংবাদ

রাণীনগর রেললাইন থেকে অজ্ঞাত নারীর মৃতদেহ উদ্ধার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ডব্লিউএইচও’তে রাখার ঘোষণা বাইডেনের কাঁঠালিয়ায় বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম হিরু সিকদারের ইন্তেকাল সব কাজে মাস্ক ব্যবহার বিপদ ডেকে আনতে পারে গ্যাস কম্প্রেসর স্টেশন স্থাপনেই ১৩ বছর পীরগাছার করোনা রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার দিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা লালমোহন ট্রাজেডির ১৭ বছর প্রেমিকার বাড়ির পাশ থেকে প্রেমিকের লাশ উদ্ধার ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ পোল্ট্রির পর গবাদিপশুতেও মহামারি, দিশেহারা কৃষক ও খামারি ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

সকল