০৯ মে ২০২১
`

ঝুঁকিতে সোনাহাট সেতু : যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

ঝুকিপূর্ণ সোনাহাট রেল সেতু :নয়া দিগন্ত -

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ সোনাহাট সেতু দিয়ে চলছে পারাপার। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় রকমের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে স্থলবন্দর বঙ্গসোনাহাটের কার্যক্রম।
ব্রিটিশ শাসন আমলে সৈন্য ও রসদ সরবরাহ করার জন্য ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। স্থানীয়ভাবে সেতুটি পাটেশ্বরী ব্রিজ নামে পরিচিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেয় মুক্তিযোদ্ধারা। দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ দিন পর এরশাদ সরকারের আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য আ খ ম শহীদুল ইসলাম বাচ্চুর প্রচেষ্টায় সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণের তিন ইউনিয়ন ও নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ও মাদারগঞ্জের সাথে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয়। সেতুটি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা থেকে কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের ১৮তম স্থলবন্দর সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা কয়লা ও পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহৃত হচ্ছে। সোনাহাট রেলসেতুর বর্তমানে বয়স প্রায় ১৩০ বছর।
জানা গেছে, নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়ে ছিল ১০০ বছর। ভারী যানবাহন চলাচল করায় মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে চলছে প্রতিনিয়ত। গত ২৫ জুলাই রাত ১০টায় সেতুটির পাটাতনের জোড়া ছুটে গিয়ে সেতুর ওপর পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকে যায়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি থর থর করে কাঁপতে থাকে। ভারী বন্যায় ভেসে যেতে পারে সেতুটির পিলার। হাজারো জোড়াতালি দেয়া সেতুর পাটাতন ভেঙে যানবাহন সমেত মানুষ নদীতে ডুবে গিয়ে ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিন দেখা গেছে সরকারি নিয়মনীতির তোওয়াক্কা না করে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করছে। পাটেশ্বরী বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সেতুটির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুন্নবী চৌধুরী খোকন জানান, সেতুটির পাটাতনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেতুর ওপর দিয়ে ২০-২৫ টনের অধিক পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করে। যদিও সড়ক বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সেতুর ওপর দিয়ে ১০ টনের বেশি পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সেতু দিয়ে একই সময়ে দু’টি পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করলে সেতুটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে সোনাহাট সেতুর অবদান বলে শেষ করা যাবে না। সেতুটি ভেঙে গেলে সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রমসহ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে।
সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, ৩০ জুলাই ঢাকায় প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় বিকল্প সেতু নির্মাণের বিষয়ে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। তা বাস্তবায়ন হলে দ্রুত সেখানে একটি সেতু নির্মিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প। দ্রুত বিকল্প সেতু নির্মাণ করার জন্য ২৪৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্প দাখিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০-৭-১৮ তারিখে ঢাকায় প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় বিকল্প সেতু নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এখানে মন্ত্রণালয় এবং সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিছু সংযোজন ও বিয়োজনের প্রস্তাব করেন। দ্রুত তা সংশোধন করে প্রকল্পটি পুনরায় দাখিল করা হবে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।



আরো সংবাদ