০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

আসল পরিচয় গোপন করেছি : মোঃ ফারাহ

অলিম্পিক অ্যাথলেট মোহাম্মদ ফারাহ - ছবি - ডেইলি মেইল

নিজের আসল পরিচয় আর গোপন রাখতে পারলেন না ব্রিটিশ অ্যাথলেট মোহাম্মদ ফারাহ। জানালেন, ছোটবেলায় তাকে পাচার করে ব্রিটেনে নিয়ে এসেছিলেন এক নারী। এরপর এক বাড়িতে শিশুদের দেখাশোনার কাজ করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিবিসি’কে কথাগুলো বলছিলেন হোসেইন আবদি কাহিন। হ্যাঁ, এটাই তার আসল নাম।

নয় বছর বয়সে তার নামটি পাল্টে যায়। জিবুতি থেকে যারা তাকে পাচার করে ব্রিটেনে নিয়ে আসেন, তারাই তার নাম রাখেন মোহাম্মদ ফারাহ। এই নামে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। হয়েছেন অলিম্পিক হিরো।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর এই গোপন কথাগুলো মনের ভেতর আটকে রেখেছিলাম।’

এর আগে ২০১৩ সালে এক অটোবায়োগ্রাফিতে বলেছিলেন, মা-বাবার সাথে সোমালিয়া থেকে ব্রিটেন এসেছিলেন তিনি।

আগামীকাল বুধবার মোঃ ফারাহর এ ডকুমেন্টারিটি বিবিসি’তে প্রচার হবে।

নিজের ছোটবেলার ছবি হাতে মোঃ ফারাহ
নিজের ছোটবেলার ছবি হাতে মোঃ ফারাহ

তিনি জানান, সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। সে সময় পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। তার জমজ ভাই হাসান আর তাকে জিবুতিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয় নিরাপত্তার জন্য। সেখান থেকে এক নারী তাকে পাচার করে ব্রিটেনে নিয়ে আসেন। এবং হুমকি দেন, যদি তোমার মাকে আবার দেখতে চাও, তাহলে কখনো নিজের আসল পরিচয় কাউকে জানাবে না। এই ভয়ে দিনের পর দিন তিনি অন্যের শিশুদের খাওয়ানো থেকে শুরু করে ডায়াপার পর্যন্ত বদলেছেন।

অলিম্পিক হিরো বলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি হলো, আমাকে পাচার করার পেছনে পরিবারের একজন জড়িতে ছিলেন। এটা মেনে নেয়াটা আমার জন্য অনেক কষ্টের ছিল।’

মায়ের সাথে দীর্ঘ দিন পর দেখা...
মায়ের সাথে দীর্ঘ দিন পর দেখা...

তিনি বলেন, ‘আমি জানি সত্যটা বলার কারণে আমি অনেক কিছু হারাতে পারি। কিন্তু আমি পরোয়া করি না। যেকোনো কিছুর মূল্যে সত্য ঘটনাটা আমাক বলতে হবেই।’

নিজের নাম প্রকাশ না করার কষ্টটা কিছুটা হলেও ভুলতে পেরেছেন, যখন তার বড় ছেলের জন্ম হয়। কারণ নিজের আসল নামে তখন ছেলের নাম রেখেছেন হোসেনই।

তবে মোঃ ফারাহর আসল পরিচয় ঠিকই বের করে ফেলেছিলেন তার স্ত্রী তানিয়া ফারাহ। ২০১০ সালে তাদের বিয়ে হয়। এর আগে ফারাহর জীবনের গল্প শুনতে চেয়েছিলেন তানিয়া। সে সময় বিভিন্ন ঘটনার অসংলগ্নতায় বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা।

তানিয়া ফারাহ বলেন, ‘ওর ঘটনাগুলো আমার কাছে খটকা লাগছিল। কিন্তু ও স্বীকার করতে চাচ্ছিল না। মিথ্যা বলছিল। কিন্তু আমি একের পর এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে ওর কাছ থেকে সত্যটা বের করে আনি।’

মোঃ ফারাহর বাবার নাম আবদি। তিনি কৃষক ছিলেন। মায়ের নাম আয়েশা।

বিবিসি’র ডকুমেন্টারি করার আগে মা এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে যান তিনি।

স্ত্রী তানিয়ার সাথে মোঃ ফারাহ
স্ত্রী তানিয়ার সাথে মোঃ ফারাহ

কেন এতো বছর পর আসল পরিচয় জানালেন মোঃ ফারাহ?

জবাব ছিল, ‘স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চেয়েছি তাই...।’

নাতি হোসেইনের সাথে দাদি আয়েশা
নাতি হোসেইনের সাথে দাদি আয়েশা

 


আরো সংবাদ


premium cement