২৬ নভেম্বর ২০২০

মাবিয়ার হতাশা, মাবিয়ার সান্ত্বনা

মাবিয়া আক্তার - ছবি : নয়া দিগন্ত

২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক গেমস। বাংলাদেশের প্রথম ভারোত্তোলক হিসেবে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত যাবেন ব্রাজিলে, তা প্রায় চুড়ান্ত। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার। তখন বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনে ছিল অ্যাডহক কমিটি। কোনো ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটির বদলে অ্যাডহক কমিটি দ্বারা তা পরিচালিত হলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পায় না। তাদের উপর নামে নিষেধাজ্ঞা।

ফেডারেশনের বর্তমান নির্বাচিত কমিটি ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয় অ্যাডহক কমিটিকে। যে কারণে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড হওয়া সত্ত্বেও রিও অলিম্পিকে যাওয়া হলো না মাবিয়ার। সেই দুঃখ ছাপিয়ে এবারে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশে এই স্বর্ণ কণ্যার। কিন্তু করোনার কারণে টোকিও অলিম্পিক গেমস পিছিয়ে অপেক্ষার পালা আরো দীর্ঘ হলো ২০১৬ ও ২০১৯ এস এ গেমসে স্বর্ণ জয়ী মাবিয়ার। অবশ্য এই গেমস পেছানোয় উপকারও হয়েছে মাবিয়ার। হাঁটুর ইনজুরি থেকে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। গত ডিসেম্বরে কাঠমান্ডু-পোখরা এস এ গেমসের সময় হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন বাংলাদেশ আনসারের এই কৃতি ক্রীড়াবিদ।

অলিম্পিক গেমসে খেলার ছাড়পত্র পেতে যে ওয়াইল্ডকার্ড প্রয়োজেন সে ছাড়পত্রের সব শর্তই প্রায় চুড়ান্ত করে ফেলেন মাবিয়া। মাদারীপুরের এই মেয়ে সাতটি কোয়ালিফাই রাউণ্ডের ছয়টিতে অংশ নিয়েছেন। তার এই মিশন শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। সর্বশেষ কোয়ালিফাইং রাউণ্ড ছিল এপ্রিলে উজবেকিস্তানে। করোনার কারণে তা স্থগিত হয়ে গেছে।

মাবিয়ার দেয়া তথ্য, ভারোত্তোলনে অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ড পেতে সাতটি কোয়ালিফাইং রাউণ্ড খেলতে হয়। সে সাথে পারফরম্যান্সের উন্নতি থাকতে হয়। আমার পারফরম্যান্স ভালো। উন্নতি সব খানেই। তাই আমি আশাবাদী ছিলাম ওয়াইল্ড পাওয়ার ব্যাপারে। ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে আমি স্ন্যাচে ৮০ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৬ কেজি তুলেছিলাম। এটা ছিল এস এ গেমস থেকে এক কেজি বেশি। আর ২০১৭ সালে প্রথম কোয়ালিফাইং রাউণ্ডে তুলেছিলাম স্ন্যাচে ৭৬ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৯৯ কেজি।

তবে হাঁটুর ইনজুরি বেশ ভোগাচ্ছিল মাবিয়াকে। যে চোটটা পান সর্বশেষ এস এ গেমসের সময়। তাই ডাক্তার তাকে ছয় মাসের বিশ্রামে থাকতে বলেন। জুনেই ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। আর অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার কথা ছিল জুলাইতে। তবে অলিম্পিক গেমস পিছিয়ে যাওয়ায় ইনজুরি মুক্তির সময় নিয়ে আর টেনশন নেই। যদিও আগামী বছর অলিম্পিক গেমস পর্যন্ত ফিট থাকা যাবে কি না সেটা একটা প্রশ্ন। মাবিয়া জানান, লক ডাউনের কারণে খেলা বন্ধ থাকায় বিশ্রামটা ভালোই হয়েছে।

অবশ্য এরপরেই জানালেন হতাশার খবর।‘১৭ মার্চ থেকে করোনার কারণে অনুশীলনের বাইরে। রড লোহা নিয়ে এক দিন অনুশীলন না করলে পরের দিন শতভাগ ওজন তোলা যায় না। কোচ পরের দিন ট্রেনিংয়ে এক কেজি ওজন কমিয়ে দেন। সেখানে আমরা সেই প্রায় তিন মাস হলো প্রশিক্ষণের বাইরে। এ জন্য খুব হতাশ। সেই সাথে ভীষণ মন খারাপ অলিম্পিক গেমস পিছিয়ে যাওয়ায়।

মাবিয়া জানান, এ বছর অলিম্পিক গেমসটা হয়ে গেলে মাথার ওপর থেকে চাপটা সরে যেত। পারফারম্যান্সটা আমার অনূকুলেই ছিল। কিন্তু গেমস পিছিয়ে যাওয়ায় অপেক্ষাটা আরো বেড়েছে।


আরো সংবাদ