০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

মাঠে গিয়ে সংসারের চিন্তা থাকলে হবে না : হরিবাহাদুর

গিনেস রেকর্ডধারী ও অলিম্পিয়ান হরিবাহাদুর রোকায়া - নয়া দিগন্ত

‘বাংলাদেশ বলেন আর এশিয়া, আমেরিকা কিংবা ইউরোপ -মাঠে বা ট্র্যাকে গিয়ে সংসারের চিন্তা করলে হবে না। দেশের জন্য কিংবা নিজের জন্য সুনাম অর্জন করার কাজটা কষ্টকর। সবার আগে খেলোয়াড়দের আর্থিক ব্যাপারটা সুরাহা করতে হবে।’ এমনটাই জানালেন দুবারের গিনেস রেকর্ডধারী ও অলিম্পিয়ান হরিবাহাদুর রোকায়া।

হরিবাহাদুর রোকায়া। ৫৮ বছর বয়সেও ফিটনেস ধরে রেখেছেন। দুই ছেলের একজন ডাক্তার অন্যজন পাইলট। তারপরও খেতে খামারে কাজ করেন। ইলেকট্রিক, প্লাম্বিং কোনো কাজেই তার আপত্তি নেই। বসে থাকতে চান না দুবার অলিম্পিকে অংশ নেয়া এই অ্যাথলেট। অসুস্থ হয়ে যান। ছেলেদের হাজার বারণ সত্ত্বেও নিজের কাজ নিজে করে যান। দুবার ওয়ার্ল্ড গিনেস বুকে নাম লিখানো হরিবাহাদুর দুবার রাষ্ট্রীয় পুরস্কার (২০১৯ সালে কীর্তিমান পদক ও ২০১৭ সালে জনসেবা) পেলেও আক্ষেপ যথাযোগ্য সম্মান ও আর্থিক পুরস্কারের।

নেপালের সবচেয়ে সম্মানজনক বড় ইভেন্ট এভারেস্ট ম্যারাথন। পাহাড়ী উচু-নিচু রাস্তায় ৫ হাজার ৩০০ মিটারের এই দূরপাল্লার দৌড়ে ১৯৯৭, ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এর মধ্যে দ্বিতীয়বার ৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ও ১০ সেকেন্ডে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছে গিনেস রেকর্ড করেন। পরের বার ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে এই পথ পাড়ি দিয়ে নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙ্গে নতুন করে গিনেস রেকর্ডে নাম লেখান। অথচ সম্মানীয় এই ব্যক্তিটি এবার ঘরের মাটিতে এসএ গেমসে সম্মানীয় কোন কাজ পাননি।

হরিবাহাদুরের কথায়, ‘ওই সময় অন্যান্য দৌঁড়ঝাপের তুলনায় ম্যারাথনে আর্থিক বিষয়টি গুরুত্ব পেত। প্রাইজমানি বেশি থাকতো। যে কারণে অন্য খেলার প্রতি মনযোগ দেইনি। বাবা কৃষক ছিলেন। মানা করেননি। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ হতে ৭ ঘণ্টা দৌঁড়াতাম। মাসে দুদিন দৌঁড়াতাম ১৪ ঘণ্টা করে। প্রতিবেশীরা বাবাকে বলতো তোমার ছেলে পাগল হয়ে গেছে। পরে যখন গিনেস রেকর্ড করেছি তখন সবাই বাহবা দিয়েছে। সরকার শুধু পুরস্কারই দিয়েছে কিন্তু কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে অলিম্পিকে খেলেছি। এশিয়ান গেমসে দুবার অংশ নিয়েছি। এসএ গেমসেও দুবার অংশ নিয়েছি। আমার শিষ্যরা হংকং, নেপাল, চীন, সুইজারল্যান্ডে ৩৫-৪২ কিলোমিটার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পাচ্ছে। এবার গেমসে আমার শিষ্য জাতীয় চ্যাম্পিয়ন বিশ্বরূপ বড়ুয়া ৫০০০ মিটারে সেনাবাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছে অথচ দেশের মাটিতে গেমসে অন্যান্য সাবেক তারকারা যে সম্মান পাচ্ছেন আমাকে তেমনটি করা হচ্ছে না।’


আরো সংবাদ


premium cement