৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত চারটি অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখার প্রতিজ্ঞা পুতিনের

রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত চারটি অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখার প্রতিজ্ঞা পুতিনের - ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে রুশ ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। এসব অঞ্চলের পরিস্থিতি ’স্থিতিশীল’ রাখা হবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি। যদিও এসব অঞ্চলে রুশ সামরিক বাহিনী পিছু হটেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রুশ ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে একটি গণভোটের আয়োজন করা হয়। যার মাধ্যমে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝাকে নিজেদের অঞ্চলের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করে রাশিয়া। তবে আন্তর্জাতিকভাবে এটি স্বীকৃতি পায়নি।

ইউক্রেন বলছে, তারা লুহানস্ক ও খেরসনের বেশ কিছু গ্রাম পুননিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং সম্প্রতি দোনেৎস্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া যেসব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সেসব আবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো অসঙ্গতি নেই। তারা চিরদিনের জন্য রাশিয়ার সাথে থাকবে। তারা ফিরে আসবে।

রাশিয়ায় শিক্ষক দিবসে এক ভাষণে পুতিন বলেন, তিনি শান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোতে উন্নত করবেন।

কিন্তু স্টেট ডুমা ডিফেন্স কমিটির চেয়ারম্যান আন্দ্রে কারটোপোলভ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, রাশিয়ার উচিৎ হবে যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটছে সেটি নিয়ে মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করা। রাশিয়ার মানুষ বোকা না।

ইউক্রেনের বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বে উভয় দিকে অগ্রগতি করেছে। লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হেইদাই বলেন, বুধবার ওই এলাকার ছয়টি গ্রাম পুননিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পরে দক্ষিণাঞ্চলের খেরসনের আরো তিনটি গ্রাম মুক্ত করার কথা জানান।

রাশিয়া এখনো রিজার্ভ সৈন্য নিয়ে কাজ করছে। গত মাসে পুতিন তিন লাখ মানুষকে ডেকে পাঠান যারা দেশটিতে বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিস সম্পন্ন করেছে।

তিনি একটা ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ছাত্র রয়েছে। তাদের মধ্যে অ্যাক্রেডিটেড ইন্সটিটিউট-এ প্রথম বারের যারা ছাত্র তারা এবং নির্দিষ্ট কিছু পোস্ট গ্রাজুয়েট ছাত্র রয়েছে। যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে পুতিন একটা ডিক্রি স্বাক্ষর করে দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝায়ার পরমাণু পাওয়ার প্লান্ট আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এই পরমাণু কেন্দ্রটি যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়ার সৈন্যদের দখলে ছিল।

রাশিয়া বলছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণু কেন্দ্রটি এখন একটি নতুন কোম্পানি চালাবে। কিন্তু ইউক্রেনের নিউক্লিয়ার অপারেটররা এটিকে নাকচ করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত মূল্যহীন।

জাতিসঙ্ঘের পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষক-দল আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেন, তিনি দু’পক্ষের সাথেই আলোচনায় বসবেন। তিনি কিয়েভ ও মস্কোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি প্লান্টের আশপাশে একটি সুরক্ষিত অঞ্চল তৈরির চেষ্টা করছেন।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ


premium cement