২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

সম্পূর্ণ কারাবাখ অঞ্চল পুনর্গঠন করাই আজারবাইজানের মূল লক্ষ্য

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিকমেত হাজিয়েভ - ছবি : সংগৃহীত

আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করার পর আজারবাইজানের মূল লক্ষ্য হলো সম্পূর্ণ কারাবাখ অঞ্চল পুনর্গঠন করা। শুক্রবার আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিকমেত হাজিয়েভ এমন তথ্য জানিয়েছেন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে তুর্কি জাতি অধ্যুষিত দেশগুলোর জোট দ্যা টার্কিক কাউন্সিলে হিকমেত হাজিয়েভ জানান, আর্মেনিয়া ৩০ বছর ধরে আজারবাইজানের ২০ শতাংশ এলাকা দখল করে এখানকার সকল শহর ও গ্রাম ধ্বংস করেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ কল্পনা করা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধে শান্তির আহ্বান জানানো।

তিনি বলেন, আজারবাইজানের যে সকল এলাকা আর্মেনিয়া দখল করেছিল, সেখানকার আজারবাইজানি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ধ্বংস করেছে এ আর্মেনীয়রা।

হিকমেত হাজিয়েভ বলেন, আর্মেনিয়ার দখলকৃত ওই সকল আজারবাইজানি অঞ্চলের ৬৭ মসজিদকে ধ্বংস করা হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদকে গবাদিপশু রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এটা ইসলাম ধর্মের অবমাননা।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছে। ১৯৯৪ সালে আজারবাইজানের ভূমি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরনো-কারাবাখ ও এর কাছাকাছি আরো সাতটি অঞ্চল আর্মেনিয়া দখল করে নিলে এ উত্তেজনা বাড়ে।

গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর, আর্মেনিয়া আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করলে দু’দেশ নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

৪৪ দিনের যুদ্ধে আর্মেনিয়ার দখল থেকে মুক্ত করে আজারবাইজান বিভিন্ন শহর ও অন্তত তিন শ’ জনবসতি ও গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা প্রায় তিন দশক আর্মেনীয় দখলের অধীনে ছিল।

যুদ্ধ বন্ধ করতে ও সংঘাতে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উদ্দেশে দেশ দু’টি রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ১০ নভেম্বর একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আজারবাইজানের জয় ও আর্মেনিয়ার পরাজয় হিসেবে মনে করা হয়। চুক্তিটির ফলে আর্মেনিয়াকে নাগরনো-কারাবাখ থেকে তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি তদারকে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে স্মারক চুক্তির আওতায় নাগরনো কারাবাখের আগদাম অঞ্চলে একটি যৌথ মনিটরিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। যৌথ এই মনিটরিং সেন্টার থেকে তুরস্ক ও রাশিয়ার সেনাবাহিনী যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি তদারকি করছে।

সূত্র : ইয়েনি শাফাক


আরো সংবাদ


premium cement